হেসে খেলে বেড়াতো মেয়েটি
আদরে আবদারে বাবা-মায়ের বুকের কাছে
বাড়িময় ছিল তার সরব উপস্থিতি
জল তুলতো, ঝাড়ু দিতো, ঘর সাজাতো ফুলে
বাড়ির সবার দিকে লক্ষ্য ছিল তাঁর
অতিথি ছিল দেবতা
রোজ স্কুলে যেত, লেখাপড়ায় ছিল ভালো
ক্লাসে ক্যাপ্টেন, হতো প্রথম
স্কুল শেষে বিকেল বেলা জল দিতো গাছে
একটি বাগান ছিল ফুলে ফলে ভরা
ফুলে ফুলে ছিল প্রজাপতি ফড়িং, ময়না টিয়া
তালগাছে ছিল একজোড়া বাবুই, বাতাসে
দোল খেত তার নকশি বাসা।
মেয়েটির চোখে আনন্দ মুখে বিশ্বাস
মেয়েটির স্কুলে যাওয়ার পথের ধারে
সরিষা ক্ষেত হলুদ ফুলে মৌমাছিতে মাতাল কৈশোর
হলুদ বাতাসে সবুজ আঁচলের মুখর কলধ্বনি।
অনেক দূর হাঁটতো সে ক্লান্ত হতো না।
স্কুলে-পাড়াতে সবাই বাসতো ভালো
-‘এমন মেয়ে মেলে লাখে একটা।’
স্কুল শেষ হলো তার, শেষ হলো কলেজ
চলে এল বিশ্ববিদ্যালয়, খুব মিলমিশ বন্ধু-সতীর্থে
শিক্ষকের ভালো লাগায়
সুখী ছিল মেয়েটি, সুখী ছিল বাবা-মা
বাবার ইচ্ছা ছিল বিসিএস ক্যাডার, মায়ের ভাবনায়
অতোশত ছিল না, তিনি চেয়েছিলেন ঘর-সংসারে
সুখী পায়রা হয়ে উড়ুক মেয়ে।
হঠাৎ একদিন সচকিত পত্র-পত্রিকা
উড়ন্ত ঘুড্ডি ভো-কাট্টা পড়ে আছে ভাগাড়ে
কাগজে কাগজে হেডলাইন,
সরব সতীর্থ-শিক্ষক-পাড়া-মহল্লা
দেশ হলো উত্তাল, রক্ষা হলো স্মৃতিকমিটি
কিন্তু প্রতিবন্ধী সমাজ-
তার নিষ্ঠুরতার পরিসংখ্যানে যোগ হলো
আরও একটি সংখ্যা।
#afrozaaditi.com , #আফরোজা অদিতি
