আমার সবসময় আকাশ চাঁদ দেখতে ভালো লাগে। সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার। রাত নয়টা। আকাশ নীল। আকাশে পূর্ণিমার গোল চাঁদ। চাঁদের গা চুইয়ে পড়ছে মায়াবী জোছনা। ঝলমল করছে পৃথিবী। রান্নাঘরে রান্না করছিলাম। এমন জোছনা রাতে রান্না করতে বা কোনো কাজ করছে ইচ্ছা করে না আমার। ইচ্ছা করে সব কাজ বাদ দিয়ে জোছনায় গা ডুবিয়ে বসে থাকি। আকাশ দেখি, চাঁদ দেখি, গান শুনি। কবিতায় ভাসিয়ে দেই মন। কিন্তু তা হয় না। সংসার আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রেখেছে; সংসার ছাড়া অন্য কোনো কাজ করতে দেয় না আমাকে।
ঘরবাড়ি গুছিয় সাফসুতরো করার পর রান্না করতে বসেছিলাম। পাশে বসে ছিল সোহাগি। সোহাগি আমার দেবরের বউ। কাজ করার সময় ও আমার কাছে এসে বসে থাকে; না করলেও শুনতে চায় না। বলে,না করো না ভাবী, তোমার কাজ দেখি, তোমার কাজ দেখতে আমার ভালো লাগে। এই রকম কথা বললে না করা যায় না, না করি না তাই। ও বসে থাকে, নানা রকম কথা বলে, গল্পগুজব করে! শুনতে বেশ লাগে। ওর কথা শুনতে শুনতে কাজের সময় খুব দ্রুত চলে যায়। রান্না করছিলাম, সোহাগি কথা বলছিল। চুলায় ভাত ফুটছিল। ফুটন্ত ভাতের একটা গন্ধ আছে। জোছনা মাখা বাতাসে ঐ গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। সোহাগির কথা বলছিল, ওর কথাও যেন ওই ফুটন্ত ভাতের মতো ছড়িয়ে যাচ্ছিল বাতাসে। আমি খুব মনয়োগের সঙ্গে কাজ করছি আর ওর কথাও শুনছি। হঠাৎ সোহাগি বলে উঠলো, ‘ভাবী, আপনার পেছনে একটা লম্বা হাত।’
আমি দাঁড়িয়ে র্যাকের ওপর থেকে তরকারি রান্নার জন্য কড়াই নামাচ্ছিলাম, চমকে উঠলাম। ফুটন্ত হাড়ির ওপর পড়তে পড়তে বেঁচে গেলাম। সোহাগি দাঁড়িয়ে হাসছে! ওর চোখে এক পলকের জন্য হলেও মৃত্যুদূতকে দেখতে পেলাম!
#afrozaaditi.com , #আফরোজা অদিতি
