নিয়তি // আফরোজা অদিতি

আমার খুব ভালো লাগতো শর্ষে ক্ষেতের হলুদ ফুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে দৌড়ে বেড়াতে; ভালোলাগতো নদীর জলকলতান শুনতে; ভালোলাগতো বান্ধবীদের সঙ্গে আনন্দমুখর থাকতে। ভাইবোন প্রিয় ছিল আমার। বাবার হাত ধরে চাঁদ দেখতে ইচ্ছা করতো; মাঝেমধ্যে বাবার হাত ধরে গিয়েছি! এখন পারি না যেতে! কাশফুলের বুকের ফড়িং ধরতে ইচ্ছা ছিল; তা-ও পারি না! এখন কিছুই পারি না আমি! আমি নেই; আমি নেই তোমাদের মাঝে! ওরা থাকতে দেয়নি! এখানে একলা একা! একলা একা থাকতে কষ্ট হয়; খুব কষ্ট হয়। এই পৃথিবীর আলো হাওয়ায় বাঁচতে চেয়েছিলাম; পড়তে চেয়েছিলাম; স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে যেতে চেয়েছিলাম! বড়ো কিছু হতে চেয়েছিলাম; হলো না! ওরা বাঁচতে দিলো না আমাকে।

বাবা; যার জন্য এই পৃথিবীতে পা রেখেছি, জীবন পেয়েছি, খেতে-পরতে পেয়েছি সেই বাবা! খুব ভালোবাসতাম তাঁকে; সেই বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন আমি! কিন’ কেন? বাবা নাকি মেরে ফেলেছে আমাকে! যদি মেরেই ফেলবে তবে কোলে-পিঠে এতোটা বড়ো করেছে বুঝি? আমাকে এতোটা বড়ো করার তো কোনো দরকার ছিল না; বাবার কী কোনো পয়োজন ছিল আমাকে ইচ্ছার ঘুড়ি ওড়াতে শেখানো! কেন ইচ্ছার ঘুড়ি ওড়াতে শিখিয়েছিল বাবা? তোমরা বলো! হায়! কেন বড়ো হয়েছিলাম আমি! কেন? মাঝেমধ্যে ভাবি; ইচ্ছা করে নয় ভাবনাটা চলে আসে; বাবা কেন এমনটা করলো? অর্থের কাছে সন্তানস্নেহ হার মেনে গেল; কেন? প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাই না।

আমার মা। যে আমাকে দশ মাস, দশ দিন গর্ভে ধারন করে প্রসববেদনা সহ্য করে পৃথিবীতে এনেছিল; স্তন্যপান করিয়ে যে আমাকে বড়ো করে তুলেছিল সেই মায়ের কাছে সন্তান নয় তার স্বামীর কথাই বড়ো হলো! মায়ের বড়ো ন্যাওটা ছিলাম আমি; খুব কষ্ট হয় মায়ের জন্য, খুব! আমার মৃত্যু সময়ে যতো কষ্ট পেয়েছি তারচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছি এখন! কেন? বাবার বিচার হবে ভেবে! বাবার শাস্তিতে খুব-খুব-খুব কষ্ট হবে।

বাবার বিচার হোক চাই না! এই বিচারে কী ফায়দা! আইনের শাসন; কিন্তু আইনের শাসন দিয়ে কী হবে; বলো? তার চেয়ে বাবা ভালো থাক, ভালো থাক বাবা। বাবাকে খুব ভালোবাসি, খুব-খুব- খুব! নিয়তিকে মেনে নিয়েছি আমি!

#afrozaaditi.com , #আফরোজা অদিতি

Leave a Reply


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home12/wwwafrozaaditi/public_html/wp-includes/functions.php on line 4615