বিকেলে ফিরলো নীরু। শশী কাঁদছে ।
কাঁদছো কেন?
জবাব দেয় না। অনেক্ষণ পরে কান্না থামিয়ে বলে, ওই কনেবউটা কে? কাকে নিয়ে থাকো তুমি?
কোন বউ! বিস্মিত নীরু।
ওইতো খাটের পাশে।
নীরু দেখতে পায় না লিপাঞ্জিনাকে। কই কোথায়?
ওইতো। না দেখার ভান করছো কেন?
কী আজে-বাজে বকছো বলো তো। এতোদিন পর দেখা। বিয়ের পর তো মেহমান আর মেহমান । তোমার সঙ্গে ভালো করে কথা পর্যন্ত বলতে পারি নি। কন্ঠে ব্যথিত উষ্মা ।
কথা বলতে পারো নি, না বলতে ইচ্ছা হয় নি। বউ আছে তোমার বলো নি!
কথা বাড়াচ্ছ কেন? আর কাঁদছো কেন? চোখে পানি এসেই থাকে তোমাদের। কথাগুলো বলেই অবাক নীরু । এ কি কথা বলছে ও। নতুন বউকে এসব কথা কেউ বলে না!
তুচ্ছ বিষয়েই রোজ চলে বাকযুদ্ধ। কখনও নীরু বারান্দায়, কখনও শশী। একদিন শশী বন্ধুর বাসায় তো অন্যদিন নীরু। একত্রে থাকা হয় না ওদের। নীরুর সঙ্গে লিপাঞ্জিনার কথা নেই। নূপুর, চুড়ির শব্দ নেই। ঘরে থাকে মিষ্টি গন্ধ। লিপাঞ্জিনাকে দেখতে পায় শশী। ওর চলাফেরা শশীর মনকে পোড়ায়। দিন যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি। ছয়মাস পর যেদিন চলে যায় শশী সেদিনই চুড়ির রিনঝিন শব্দ টেবিল সাজিয়ে দিলো রাতে। খেলো নীরু।
রাতে চুড়ির শব্দ তুলে বললো মিষ্টি কন্ঠ, বিয়ে করো আমাকে।
কেন এমন করছো তুমি? তোমাকে দেখি নি পর্যন্ত। আমি দশটা মানুষের মতো সন্তানসহ সুন্দর জীবন চাই। শশীকে চাই।
শশী নয়, সব দেবো আমি। মিষ্টিগন্ধ জড়িয়ে ধরে ওকে। সম্মোহিত নীরু একটা অস্তিত্ব অনুভব করে।
স্বপ্ন দেখে। দিগন্তরেখা থেকে আসছে এক তরুণী। নীরু দুহাত বাড়িয়ে টেনে নিলো সেই নারীকে। সেই নারীও নিশ্চিন্তে সমর্পন করলো নিজেকে। নীরু ঘুম ভেঙে দেখে ওর পাশে শশী নয় অন্য এক নারী । ভোরের আলো পড়েছে তার চোখে-মুখে। নীরু অনন্য এক ভালোলাগা নিয়ে তাকিয়ে থাকে ওই নারীর মুখে। ওর সম্মুখে ওই নারী, বুকের ভেতরেও ওই নারী; শশী নেই কোথাও। (সমাপ্ত)
#afrozaaditi.com , #আফরোজা অদিতি
