চরিত্র :
রহমান- গ্রামের কৃষক
শাহিদা- রহমানের স্ত্রী
মা- রহমানের মা
মুন্নি- রহমানের বোন
জামসেদ- মুন্নির স্বামী
মণ্ডল- গ্রামের মাতব্বর
কেরামত- মসজিদের ইমাম
১ম জন- গ্রামের মান্য ব্যক্তিত্ব
২য় জন- গ্রামের মান্য ব্যক্তিত্ব
মিজান- মানবাধিকার কর্মী
পটল- মণ্ডলের সহচর
গ্রামের কিছু সাধারণ মানুষ
১ম দৃশ্য
{ শাহিদা কাঁথা সেলাই করবে। মুন্নি ম্লান মুখে ঢুকবে। চোখও থাকবে ভেজা}
শাহিদা : আরে, মুন্নি যে, আস আস। ( পেছন এদিক ওদিক তাকিয়ে) কাউরে আননি। আর তোমার মুখটা এমন শুকনা ক্যান ? কী হইছে।
মুন্নি : কেমন আছ ভাবী
শাহিদা : ভালো, তুমি হঠাৎ কী মনে কইরে ! সব ভালো তো। শেলী, কামাল কেমন আছে। আর জামশেদ ভাই ভালো আছে তো। তোমার বাড়ির আর সবাই…
মুন্নি : সকলেই ভালো।
শাহিদা : (মুন্নির হাত ধরে) কিন’ তোমারে দেখে তো ভালো মনে হইতিছে না।
মুন্নি : ভাবী, ভাই বাড়ি নাই…
{লুঙ্গীর ওপরে শার্ট, ঘাড়ে গামছা রহমানের প্রবেশ}
রহমান : কিরে মুন্নি কখন আসলি। থাকবি তো কয়দিন, সঙ্গে কেউ আসেনি। (মুন্নি কথা না বলে চুপ করে থাকবে) কিরে, কথা কস না ক্যান। কী হইছে ক।
মুন্নি : আমি (আবার চুপ করবে)
রহমান : (অসহিষ্ণু কণ্ঠে) আবার চুপ করলি কথা না বলে।
মুন্নি : ভাইজান আমি আসছি একটা কথা বলার জন্যি।
রহমান : বল না (বসতে বসতে শাহিদাকে বলবে) সোলেমানের মা, চা মুড়ি খাওয়াতে পারবা।
শাহিদা : (কাঁথা একপাশে সরিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে) বল মুন্নি। আমি তো কখন থেকে তোমারে জিগাইতেছি, বলতেছ না।
(মুন্িন কথা বলবে না, শাহিদা চলে যাবে)
মুন্নি : ভাইজান (থেমে) তোমার জামাই মানে কামালের বাপ দোকান দিতে চাইতেছে, তাই ৫০ হাজার টাকা তোমাকে দিতে বলছে।
রহমান: (বিস্মিত কণ্ঠে) ৫০ হাজার ! এতো টাকা কই পাবো ক। ওইদিনই না ৪০ হাজার দিলাম।
মুন্নি : ওই টাকা দিয়া সোফা কিনছে। (মাথা নিচু করে চুপ করে থেকে হাত পায়ের কাপড় সরিয়ে মারের কালশিটে দাগ দেখাবে) এই দেখ ভাইজান, এরপর টাকা না দিলে মাইরাই ফ্যালাবে।
রহমান : (চোখ টলটল করবে জলে) ঢাক ঢাক ঢাইকে রাখ। যা দিব, টাকা দিব। এখন মায়ের কাছে যা।
(মুন্নি বের হয়ে যাবে। চা মুড়ি নিয়ে ঢুকবে শাহিদা রাখবে রহমানের সামনে)
রহমান : শুনছো সোলেমানের মা, মুন্নি আবার টাকার জন্য আসছে। কী যে করি !
শাহিদা : আবার টাকার জন্য আসছে। দুইমাস আগে না দিলা। তা এবার কতো চায় !
রহমান : ৫০ হাজার
শাহিদা : এতো টাকা কোথা থেকে দিবা। আর বিয়ার পর থেকে দিতেই আছ! বিয়ার সময়ও দিছ, আর কতো !
রহমান : কী করি কও, মারধোর কর ভালো লাগে না। দেখি কেউ টাকা ধার দেয় কিনা।
