২য় দৃশ্য
(চৌকিতে বিছানা। রহমান বালিশে হেলান দিয়ে বসে থাকবে। শাহিদা পান দিবে।)
রহমান : (হতাশ কণ্ঠে) টাকাটা যোগাড় করতে পারলাম নারে সোলেমানের মা।
শাহিদা : মণ্ডল দিলো না
রহমান : দিবার চায় কিন্তু নিমু না।
শাহিদা : ক্যান
রহমান : তোমারে ছাইড়া দিতে কয়! কিন’ তোমারে তো ছাড়তি পারুম না সোলেমানের মা। তুমি তো আমার জান, তোমারে ছাইড়ি থাকতি পারবো না। তার চাই জমিটুক বিক্রি কইরে দিব।
শাহিদা : (বিস্মিত আতঙ্কিত) জমি বিক্রি করবা। ঐটুক জমিই তো সম্বল। ওইটুক গ্যালে খাইবা কী ? পোলাডা আছে, তার জন্যি তো কিছু রাখা লাগবে।
রহমান : বড় আদরের বোন… কী করি তুমিই কও। ছোটবেলা থাইকা কোলেপিঠে মানুষ করছি। বাপ নাই। যতো আদর আবদার তো আমার কাছেই। এ রকম মারধোর করলি কী আমার ভালো লাগে।
শাহিদা : যতোই দ্যাও মারামারি কী ঠেকাইতে পারবা। সব দিয়া যখন মাইনষের বাড়ি কামলা খাটবা তখন তো টাকা দিতি পারবা না, আবার সংসারের কষ্টে তোমারও ভালো লাগবি না। আর টাকা না দেওয়ার জন্যি মুন্নিরে তাড়ায়া দিব না হয় মাইরা ফেলাইব।
রহমান : আল্লা যা কপালে রাখছে তাই হইবো। তুমি আমি কী করতি পারি কও। সবাই আগে থেকা নির্ধারণ হয়ে আছে। চিন্তা কইরো না বই, তোমারে ছাড়তি পারবো না। তুমি আর মুন্নি দুজনাই আমার আপন।
৩য় দৃশ্য
(রহমান, শাহিদা, মুন্নি দাঁড়িয়ে। খাটে মা বসে থাকবে। রহমান টাকা বাড়িয়ে দিবে মুন্নিকে)
রহমান : মুন্নি, এখানে ৩০ হাজার আছে। জমির দাম এর বেশি হলো না। সব জমিই তো শেষ। এখন এই বাড়িটুকই সম্বল। তুই এই নিয়া যা।
মুন্নি : (হাত বাড়িয়ে টাকা নিয়ে, চোখ মুছতে মুছতে বলবে) তোমারে খুব বিপদে ফেলছি ভাইজান। আর আসবো না।
(জামশেদের প্রবেশ)
শাহিদা : আসেন ভাইজান, বসেন।
জামশেদ : বইতে আসি নাই। তিন দিন হইল মুন্নিরে পাঠাইছি এখনও বাড়ি যাইবার নাম করতাছে না, তাই আইলাম।
শাহিদা : ভাইজান, একটু অসুবিধা আছিল। যোগাড় করতে দেরি হইল। এখনও পুরা হয় নাই।
জামশেদ : (রাগত কণ্ঠে) এখনও পুরা করেন নাই। পুরা না হলে নিব না। তা ভাইজান কথা কইতেছেন না ক্যান।
রহমান : শোন ভাই, এখন এই নিয়া যাও, পরে আবার দিব। বস, বস।
জামশেদ : না, বসবো না। টাকা দ্যান চইলা যাই। (মুন্নি টাকা বাড়িয়ে দিবে , জামশেদ টাকা নিয়ে গুনতে থাকবে। তারপর বলবে) মাত্র ৩০ হাজার। টাকা পুরায়া দ্যান।
রহমান : নাই ভাই। তুমি মুন্নিরে নিয়া যাও, আমি পরে আবার দিব।
জামশেদ : না, মুন্নিরে নিব না। টাকা দিবেন, মুন্নিরে নিব।
(চলে যাবে। মুন্নি পেছন থেকে বলবে)
মুন্নি : আমারে নিয়া যাও, নিয়া যাও।
জামশেদ : (মুখ ঘুরিয়ে) না তোরে নিব না। টাকা আরও ৫০ আনবি তবেই আমার বাড়ি ঢুকবি। টাকা নিতে পারলে এইখানেই থাকবি। তোরে তালাক দিব বুঝলি, আবার বিয়া করবো।
(হাঁটু গেড়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়বে মুন্নি)
