টেলিফোন ছেড়ে চুপচাপ শুয়ে পড়েছে মিতা! কিছুক্ষণ এপাশ-ওপাশ করে পড়তে পড়তে ছেড়ে যাওয়া বইটি হাতে তুলে নেয় মিতা। কিন’ পড়ায় মন দিতে পারছে না। কেন যে এক অজানা আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ছে মাথার প্রতিটি কোষে কোষে, কিছুতেই বুঝতে পারছে না মিতা! অজানা ভয় চারদিক থেকে ঘিরে ফেলছে ওকে। ওর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানান দিচ্ছে, কোনো একটা অঘটন ঘটতে যাচ্ছে। কী ঘটবে তা বুঝতে পারছে না বলেই ওর মাথার ভেতর চিন্তাগুলো জট পাকিয়ে যাচ্ছে। এমনভাবে চিন্তা আর ভয় ওর মস্তিষ্কের কোষে কোষে অবস্থান নিয়েছে যে কোন কিছুতেই ও মন দিতে পারছে না। বই পড়াতেও না। অথচ এই বই ওর সবচেয়ে ঘনিষ্টতম বন্ধু। এই বই নিত্যদিনের সঙ্গী ওর। বই পড়লেই মন ভালো হয়ে যায় ওর, কিন্তু আজ বই পড়তেও ইচ্ছা করছে না ওর। আবারও হাতের বই একপাশে সরিয়ে রেখে বারান্দায় গিয়ে বসে।
স্বামীর ঘর ছেড়ে এসেছে বিশ বছর। বিশ বছর খুব কম সময় নয়। যখন ঘর-সংসার ছেড়ে এসেছিল তখন বয়স ওর বয়স পঁচিশের কোঠায়। মেয়ে সবে হাঁটিহাঁটি পা পা। সেই থেকে এই অবধি। পথ হেঁটেছে আর হেঁটেছে, পথ হাঁটছে একা একা। পাশে কেউ ছিল না, তখনও ছিল না, আজও নেই! স্বামীর সংসার ছেড়েছে বলে, বাবার বাড়ির সকলে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ওর সঙ্গে, আর স্বামী বা স্বামীর বাড়ির কেউ আসেনি। ওদের মেয়ের কথা ভেবেও আসেনি। সব কিছু একাই করে এসেছে এতোদিন। মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়েছে,বড়ো করেছে। পুরণ করেছে মেয়ের সকল আবদার। এখন চাকরি করছে মেয়ে। বিয়ে দিয়েছে মেয়েকে। পছন্দ ছিল মেয়ের।
বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল না ওর। বিয়ে করলেই যে মানুষ সুখি হবে এ বিশ্বাস ভেঙে গেছে ওর অনেকদিন। জীবনের একটা জরুরী বিষয় এই বিয়ে সে ধারণাও পাল্টে গেছে অনেকদিন। বিয়ে না করলেও একটা মেয়ে ইচ্ছা করলেই ভালো থাকতে পারে এই বিশ্বাস জন্মেছে এখন! কিন’ ওর বিশ্বাস-অবিশ্বাসে তো কিছু এসে যায় না। এ সমাজ,সংসার তো ওর বিশ্বাস ওর মতে চলবে না। তাছাড়া একা একা তো সমাজ বদল করাও যায় না।
একা একা বিরূপ মন্তব্য শুনতে শুনতে পথ হাঁটা যায়, কষ্টে চোখের জল ঝরিয়ে এ সমাজে বসবাস করা যায় একা একা! একা একা সমাজ বদল করা যায় না। এ সমাজ মেয়েদের জন্য ভীষণ কঠিন; এখানে কোণঠাসা করে রাখা হয় মেয়েদের। মেয়েদের বেলায় এ সমাজ একচক্ষু প্রতিবন্ধী! এ সমাজ গৎবাঁধা জীবন যাত্রায় বিশ্বাসী। মেয়েদের সব কিছুতেই দোষ, সব কিছুতেই বাধা। সভ্যতা বিকাশেও নারীর অগ্রগতি হয়নি। নারী লেখাপড়া করছে, শিক্ষিত হচ্ছে, চাকরি করছে তবুও নারীর উন্নতি হচ্ছে না। কেন? এ সমাজ কবে নারীকে মানুষ বলবে? কবে মেয়েরা মানুষের মতো জীবন-যাপন করবে?
মিতার মনে এরকম প্রশ্ন প্রায়শ: ঘুরপাক খায়। নারী আন্দোলন, নারীনীতি প্রনয়ণ, বিভিন্ন সময়ে নারী ও শিশু অধিকার আইন পাশের ফলে নারী আজ অনেকটাই এগিয়ে তবুও তো নরীর মুক্তি মিলছে না। কেন? কোথায় লুকিয়ে নারীমুক্তি? এমনিতে দেখা যায় এ দেশের প্রত্যেক পুরুষ ভালোবাসে তার মা, স্ত্রী, বোন, মেয়েকে। তবুও নারীর ইচ্ছার মূল্য কোথায়? নারীর ওপর চাপানো তাদের ইচ্ছার ভার বয়ে বেড়াতে হচ্ছে নারীকে আজও। আজও একজন নারী হচ্ছে অপহৃত, নারী হচ্ছে সম্ভ্রমহানীর শিকার, হত্যাসহ নানাবিধ অত্যাচারের শিকার হচ্ছে নারী। মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন জাগে মিতার মনে এতো ভালোবাসে স্বামী তার স্ত্রীকে, ভাই তার বোনকে, বাবা তার কন্যাকে তবুও কেন নারীর এই অবস্থা। এ প্রশ্নের জবাব সে কোনো দিক থেকেই মেলাতে পারে না।
আজ এসব চিন্তা করছিল না মিতা। মিতা চিন্তা করছিল ওর মেয়ের কথা। বিশ বছর সে মেয়েকে বুক দিয়ে আগলে রেখে বড়ো করে তুলেছে। বিয়েও দিয়েছে, কিন’ আজ চিন্তা করে দেখছে সব কিছু শূন্য। সবই ভাগ্য। ওর মেয়েটাও ওরই মতো ভাগ্য নিয়ে জন্মেছে। মিতা ভাগ্য বিশ্বাস করেনি আগে কিন্তু আজ ভাগ্য বিশ্বাস করে, বাধ্য হয়েই করে। মেয়ের স্বামী, মুনিম ভালো নয়। ওদের মানসিকতার সঙ্গে মুনিমের মানসিকতা মিলে না। সংসার সমঝোতার জায়গা। কিন’ মুনিমের মধ্যে সমঝোতা করার কোন মানসিকতাই নেই। ও লেখা-পড়া করে ডিগ্রি নিয়েছে ঠিকই, জ্ঞানের পরশ নেই ওর মধ্যে। যা আছে তা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি। কোন শিক্ষার আলো নেই, আলোকিত ভুবনের বাসিন্দা নয় ও।
সীতার জন্য কষ্ট হচ্ছে ওর। মানসিক সাপোর্ট দেওয়ার মতো বন্ধু হতে পারেনি মেয়ের। একজন মানুষের জীবনে তাঁর সুখ-দুঃখ শেয়ার করার মতো ভালো একজন বন্ধুর প্রয়োজন। সেরকম বন্ধু এখন আর ওর নেই। সে মা, বন্ধু হওয়ার দরকার ছিল কিন’ মেয়ের বন্ধুই হয়ে উঠতে পারেনি কখনও। মা, মেয়ের বন্ধুত্ব হয় ঠিকই কিন’ দাম্পত্য বিষয়ে কথা মা-মেয়েতে ঠিক মতো হয় না কোথায় যেন একটা বাধা রয়ে যায়। কিংবা বলা যায় ওর কাছেই এ বিষয়টার আলোচনায় বাধোবাধো লাগে, এই আলোচনা ঠিকমতো আসে না।
মিতা, কোন কথা জিজ্ঞাসা করতে পারছে না সীতাকে। সীতার নিজের পছন্দ ছাড়াও মুনিম মিতার আত্মীয়। বড়োভাবীর বোনের ছেলে। এ ব্যাপারে কিছু বলতে গেলে ভাইয়ের সঙ্গে মনকষাকষি হবে। এ জন্য ভাইকেও কিছু বলতে পারছে না। মিতার এ বিয়েতে মত ছিল না। কেন যেন মনে হয়েছে, সীতা আর মুনিমের ঠিক অ্যাডজাস্ট হবে না। মিতা ওর ভাবীর প্রস্তাবে সরাসরি না করে দিয়েছিল। পরে সীতার কথায় রাজী হয়ে যায়। সীতাকে বুঝিয়েছিল মিতা, কয়েকদিন চাকরি কর তারপর বিয়ে করিস। কিন্তু মেয়ে রাজী হয়নি। বিয়ের পর থেকেই ওদের মধ্যে ঠিকঠাক চলছে না বুঝেছে ও। চাকরি ছাড়তে চেয়েছিল সীতা, কিন্তু মিতা অনেক বুঝিয়ে শেষ পর্যন্ত রাজী করাতে পেরেছে সীতাকে! চাকরি ছাড়েনি। তবে ব্যাংকে চাকরি ছেড়ে স্কুলে চাকরি করছে।
মিতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পাশ ফিরে শোয়। পাশ ফিরে শোওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওর ভাবনারও পরিবর্তন হয়। ও নিজেও চলে এসেছিলো স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার জন্য। ও তো স্বামীর সঙ্গে সমঝোতা করেই থাকতে চেয়েছিল। কিন’ পারে নি। ওর আত্নসম্মানে লেগেছে। ও একটা শিক্ষিত,কর্মজীবী নারী। ওর স্বামীর কোনো অধিকার নেই ওর গায়ে হাত তোলার। মতের অমিল হতেই পারে, কোন কাজ পছন্দ নাও হতে পারে তাই বলে গায়ে হাত তুলবে। এটা কি রকম বর্বরতা। ও চলে এসেছিল। ওর চলে আসাটা মেনে নেয়নি ওর মা। ওর মা চাইতো ও ফিরে যাক। এই নিয়ে মায়ের সঙ্গে মনোমালিন্য। ওর মা সরাসরি যেদিন বললো, তুমি চলে যাও, এ বাড়িতে তোমার জায়গা নেই।
ও প্রশ্ন করেছিলো, কেন মা?
বিয়ের পর মেয়েদের বাড়ি বাড়ি আর নিজের বাড়ি থাকে না!
কেন থাকবে না মা! এই বাড়িতে বড়ো হয়েছি, এখানে আমার শৈশব, কৈশোর কেটেছে। জীবনের স্নিগ্ধ সুন্দর দিনগুলো কেটেছে এখানে। তোমার, বাবার, ভাইয়াদের সঙ্গে, তবুও কেন আমি এখানে থাকতে পারবো না মা। এখনও মা, সকলে বলে এটা মিতাদের বাড়ি। এখনও তোমাকে সবাই ডাকে মিতার মা, তবুও আমি কেন থাকতে পাবো না মা।
মা জবাব দিয়েছিল, আমি অতোশতো বুঝি না, তুমি এখানে থাকতে পারবে না। আজই জামাইয়ের সঙ্গে চলে যাবে। আমি ওকে আসতে বলেছি।
মা! মিতা আর্তনাদ করে উঠেছিলো। বলেছিলো, তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা না করে কেন তাকে আসতে বলেছো মা? আমার শুধু বিয়ে হয়েছে বলে আমি, এ বাড়ির সকল অধিকার হারিয়েছি। একটা ছেলে যদি বিয়ের পর তার অধিকার না হারায়, একটা মেয়ে কেন হারাবে মা। অসহায়ের মতো কেঁদেছিল সীতা। মায়ের কথা মেনে নিয়ে সেদিন সীতা, ও বাড়িতে গিয়েছিল। কিন্তু একমাসের মাথায় আমাকে আবার ফিরে আসতে হয়েছিল ওকে। কিন্তু সেবার আর মায়ের কাছে ওঠেনি। এক বান্ধবীর বাসায় কয়েকদিন থাকার পর বাসা নিয়েছিল।
আজ এতো বছর পর পুরানো কষ্টটা বুকের ভেতর তোলপাড় করে। এক সমুদ্র নীল ঢেউ ভাসিয়ে নিয়ে যায় ওকে। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রুকণা। ও চোখ মুছে। মনে মনে বলে, মেয়ের সুখে-দুখে পাশে থাকবে সবসময়। কখনও ছাড়বে না একা।
মিতা চোখ বন্ধ করে শুয়েছিলো। কপালে হাত রেখে ডাকে সীতা। মা, মা। ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে মেয়ে।
কিরে, কিছু বলবি?
হ্যাঁ মা, ফোন করেছিল কে? ফোন ধরেই যে মন খারাপ হয়ে গেলো তোমার।
মুনিম।
কী বললো ?
সীতাকে সব কথা বলবে কি বলবে না ভাবছে মিতা। মুনিম অনেক আজেবাজে কথা বলেছে। শ্বাশুড়ি বলে সাধারণ সৌজন্য বোধটুকুও দেখায়নি সে। মিতা এসব কথা বললো না সীতাকে। শুধু বললো, তুই যাবি কবে?
আমি তো যাবো না।
কেন?
এমনিই।
এমনি তো হতে পারে না । কোনো একটা কারণ নিশ্চয় আছে।
কোনো কারণ নেই, হঠাৎ রেগে যায় সীতা।
সোনা মা, বিয়ে তো শুধু কাগজের টুকরা নয়! বিয়ে এক জীবনের সঙ্গে অন্য এক জীবনের অচ্ছেদ্য বন্ধন। এটা ছিঁড়ে ফেলতে উপযুক্ত কারণ লাগে, মা।
সীতা কোনো কথা বলে না। মিতা একটু চুপ থেকে বলে, তোর কী হয়েছে সীতা।
কিছু না মা।
মুনিমের সঙ্গে…
না, মা। ওসব কিছু না। সীতা তড়িঘড়ি প্রসঙ্গ পাল্টায়। মা একটা ছড়া বলো না। অনেকদিন তোমার ছড়া শুনি না।
ছড়া! বিস্মিত মিতা।
হ্যাঁ মা, সেই ছোট্টবেলায় কতো ছড়া শুনেছি তোমার কাছে। এখনও কানে বাজে মা। তোমার সেই মিষ্টি কন্ঠের ছড়া-
“সীতা আমাদের সোনা
স্যাকরা ডেকে মোহর কেটে
গড়িয়ে দেব দানা
কেউ করো না মানা”…
মিতা ওকে বুকে টেনে নিয়ে বলে, তোর কী হয়েছে সীতা বল তো?
কী আর হবে মা।
দ্যাখ সীতা, সকলের চোখ ফাঁকি দিলেও মায়ের চোখ ফাঁকি দেওয়া যায় না।
তুমি শুধু শুধু ভাবছো মা। চোখের জল লুকাতে অন্য দিকে ঘাড় ফেরায় সীতা।
মিতা, ওর দিকে মুখ ফিরিয়ে এনে বলে, সত্য করে বল সীতা কী হয়েছে।
সীতা স্বাভাবিক থাকতে চেষ্টা করে। মায়ের পাশে শুয়ে পড়ে।এবং মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে, মা তুমি কবিতা লিখতে, লেখা ছাড়লে কেন?
মা, মেয়ের মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে, তোর বাবা, পছন্দ করেনি বলে।
তুমি এখন তো লিখতে পারো মা। এখন তো সময় আছে তোমার।
তা আর হয় না। ছেড়ে দেওয়া কাজ আর ধরা যায় না। আর ধরলেও সেভাবে আর করা হয়ে ওঠে না। তাছাড়া, এখন তো আমার কবিতা লেখার প্রয়োজন নেই সীতা। তোকে আমি কবিতার মতো মানুষ করেছি। তুইই তো চলনেফেরনে জলজ্যান্ত কবিতা আমার ।
এরপর মা, মেয়ে দুজনেই চুপ করে থাকে। মেয়ের চুলে বিলি কাটে মা। সীতা, ছোটোবেলা থেকে সব কথা আমাকেই বলেছিস, এখন তোর কী হয়েছে আমাকে বল! আমি তো শুধুই তোর মা নই, তোর বন্ধুও তো বটে।
সীতা মায়ের গলা জড়িয়ে বুকে মুখ রাখে ছোটোবেলার মতো। বলে, কী হবে মা এসব শুনে। যে কথা শুধুই কষ্ট আনে তা শুনে লাভ কী মা।
লাভ আছে। সব শুনে আমরা দুজনে মিলে একটা ব্যবস্থা নিতে পারি। যা তোর একার পক্ষে সম্ভব নয়, তা দুজনের পক্ষে সম্ভব।
সীতা কাঁদতে থাকে। মিতা, কিছুক্ষণ ওকে কাঁদতে দেয়। সীতা কেঁদে কেঁদে শান্ত হলে বলে, এবার বল, কী হয়েছে।
আমার ভুল হয়ে গেছে মা। তোমার কথা না শুনে ভুল করেছি মা, ভুল হয়েছে আমার। এ বিয়ে করা আমার উচিত হয়নি।
মিতা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, আমিও তোকে সেভাবে বাধা দেয়নি, আমাকে ক্ষমা করে দে।
এ কথা বলে না মা। সব আমার ভাগ্য, নিয়তি।
ভাগ্য বলে কিছু নেই সীতা। সব অভিজ্ঞতার অভাব। চেষ্টার অভাব। এখন তুই কী করবি। আমি, সর্বক্ষণ তোর পাশে আছি মনে রাখবি। নিজের জীবনটাকে তুই তোর নিজের মতো করে গুছিয়ে নে।
সীতা, মাকে জড়িয়ে শুয়ে থাকে। ওর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। মায়ের বুক চিরে বের হয় দীর্ঘশ্বাস। মা, মেয়ের চোখের জল মুছিয়ে মেয়েকে গভীরভাবে বুকে জড়িয়ে নেয়। তাঁর সবরকম আশ্বাস আর বিশ্বাসের উষ্ণতায় উত্তাপ দেয় মেয়েকে। মেয়ে পরম নির্ভরতায় খুঁজে পায় বেঁচে থাকার নতুন আশ্বাস।
#afrozaaditi.com , #আফরোজা অদিতি
