ছোট্ট চড়ুই ছানা // আফরোজা অদিতি

কোন এক শীতার্ত আবহাওয়ায় ছোট্ট চড়ুই পাখিরা খাবার পাচ্ছিল না। তাদের বয়স এক বছরের কম ছিল। তারা বড়দের মতো চালাক-চতুর ছিল না বলে তারা মারামরি করে কোন বীজ বা ক্ষুদ্র শস্যকণাও সংগ্রহ করতে পারতো না। ওদের মধ্যে একটু বড় যে চড়ুই ওর নাম বিকি; বিকি বলল, “আমরা বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাবো, গতবছর তারা আমাদের বাসাতে খাবার দিয়ে সাহায্য করেছে।” বিকির কথাগুলো শোনার পর তারা উড়ে গেল সেখানে, যেখানে বড় চড়ুইরা গোলাবাড়ির ছাদের ওপর বসেছিল; অপেক্ষা করছিল মুরগীর খাবারের জন্য। যখন মুরগীর খাবার দিবে এবং মুরগীরা খাবার খাবে তখন সেখানে উড়ে উড়ে নামবে তারা যদি কিছু শস্যদানা পাওয়া যায়। “ওখানে আমাদের বাবা-মায়েরা আছে” বলল সবচেয়ে পুচকে চড়ুই। ওর নাম টেইলর। সে আরও বলল, “মা তোমাকে আমাকে মানা করতে পারবে না।”

মইয়ের ধাপের ওপর থেকে বাদামি রঙের বড় চড়ুই ওদের লক্ষ্য করছিল। ছোট্ট চড়ুইয়েরা কাছে আসতে সে বলল, “ওহ, তোমরা সেই দুষ্টু ছোট্ট চড়ুই যারা বাসা থেকে ওড়ার চেষ্টা করেছিলে।” সে আরও বলল, “আমি তোমাদের বিশ্বাস করতে পারি! তোমরা কী চাও?” টেইলর বলল, “প্লিজ মা, আমরা ছোট্ট চড়ুই এই কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার জন্য খাবার খুঁটতে পারিনি। আমরা ক্ষুধার্ত। কিছু খাবার চাই। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে যেমন দিয়েছ, তেমনি।” এই কথা শুনে বয়স্ক চড়ুইটি বলল,“কি বলছ, আমরা তা পারি না, তোমরা প্রায় এক বছরের কাছাকাছি হয়েছ! তোমরা অবশ্যই তোমাদের দেখভাল নিজেরাই করতে পারবে।” এই কথা শুনে ছোট্ট চড়ুইয়েরা দুঃখ পেল, হতাশ হলো। এখন তারা কী করবে।

একটি ছোট্ট পরী ওখান দিয়ে যাচ্ছিল। সে দুখী ছোট্ট চড়ুইদের দেখে দাঁড়ালো। “কী হয়েছে?” বলল পরীটি। ছোট্ট চড়ুইয়েরা বলল, “তারা ক্ষুধার্ত।” তখন পরীটি মাথা ঝাঁকালো এবং বলল,“অনেক লোক ক্ষুধার্ত এই পাখীদের মতো কিন’ আমি খুব ভাগ্যবান, আমার অনেক খাদ্য জমা আছে- তোমরা চাইলে শেয়ার করতে পারো।” “ওহ্‌ তুমি খুব দয়ালু।” চিৎকার করে বলল চড়-ইয়েরা। তারপর বলল, “আমরা কি এখন তোমার সঙ্গে আসতে পারি?” “হ্যাঁ” বলল ছোট্ট পরী। “তোমরা দিনে একবার ডিনারের সময় আসবে; আমাদের জন্য অনেক খোসাসহ আলু রান্না করবো,এবং অনেক রুটিও বানাবো আমি। চলে এসো।” আনন্দে উচ্ছল হয়ে কিচিরমিচির করতে করতে তারা উড়তে লাগল। পরী তার ছোট্ট বাড়িতে ওদের নিয়ে গেল এবং ঝোপঝাড়ের মধ্যে লুকিয়ে রাখলো যাতে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কেউ যেন ওদের দেখে না ফেলে!

রাতের খাবার সময় পরীটি বলল, “এখন ওভেন থেকে গরম আলু বের করবো তোমাদের জন্য।” সে তার ঘরের চারপাশে তাকালো সেখানে একটি চেয়ার ছিল, সে তার বইয়ের র‌্যাক ও সোফা দেখল। এবং বলল,“চড়ুই ছেলেরা, তোমরা বইয়ের র‌্যাকের ওপর এবং চড়ুই মেয়েরা, তোমরা সোফার পেছনে বস।” সে আরও বলল, “কিন্তু, সোনামনিরা শোন, আমার কাছে তোমরা দেখতে প্রায় একই রকম! আমি তোমাদের আলাদাভাবে চিনতে চাই!”

এই কথা শুনে টেইলর বলল,“আমি ছেলে চড়ুই” আর বিকিস-ও ছেলে।” এবং ওরা বুককেসের ওপর বসলো। টেইলর আরও বলল,“টপি,ফ্লিক, ফিদার এবং ফ্লুপ মেয়ে চড়ুই; ওরা ছাড়া অন্য সকলেই ছেলে।” পরীটি ওদের বলল, “আমি কাউকে চিনি না, কিন্তু আমি চাই তোমরা তোমাদের কাজ যথাযথভাবে করবে, আমি জানি! আমি ছেলে চড়ুইদের ছোট কালো বিবস্‌ দিবো পরার জন্য; যেটা দিয়ে আমি সহজেই ছেলে চড়ুইদের চিনতে পারবো।” সে আটটা ছোট কালো বিবস্‌ ড্রয়ার থেকে বের করে ওদের দিলো। সেটা পরার পর তাদের উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল এবং সত্যিই তারা আনন্দ অনুভব করছিল। 

মেয়েরাও তাই চাইছিল কিন’ পরীটি তার মাথা নেড়ে বলল, “না, যদি তোমরা সকলেই কালো বিবস্‌ পরো তাহলে আমার তালগোল পাকিয়ে যাবে।” সে প্রতিটি চড়ুইকে কিছু আলু আর শুকনো খাবারের টুকরা দিলো। তারা ক্ষুধার্ত ছিল এবং গোগ্রাসে খেয়ে ফেলল। খাবার শেষ করার পর ছেলে চড়ুইয়েরা বলল,“আমরা কি ভালো বিবস্‌ রাখতে পারি। আমরা খুব সুখ অনুভভ করবো।” একটু হেসে পরীটি বলল, “তোমাদের ইচ্ছা।” তাদের দেখতে হাস্যকর লাগছিল। তারা সকলে উড়লো, তাদের নতুন বিবস্‌ পরে অহঙ্কারী দেখাচ্ছিল।
যতোদিন গরম আবাওয়া না এলো ততোদিন তারা পরীর কাছে এসে খাবার খেতো। “এখন তোমরা নিজেদের খাবার নিজেরাই সংগ্রহ করে খেতে পারবে।” পরীটি বলল। “কিন্তু পরের বছর যদি মনে করো তোমাদের সাহায্য প্রয়েজন আমি সাহায্য করবো।” পরীটি আরও বলল, “প্লিজ শরৎকালে আমাকে কিছু কাঁটাঝোপ এনে দিয়ো, কারণ আমার লেপ ও কুশন প্রয়োজন।” শরতে চড়ুইয়েরা দয়ালু পরীর জন্য কাঁটাঝোপ খুঁজে নিয়ে এলো এবং পরীটিও নতুন বছরের শীতে নানা ধরনের খাবার দিলো তাদের।

তারা তাদের বিবস্‌ পরেই ছিল! তোমরা কি বিশ্বাস করো? আচ্ছা ভালো করে সব চড়-ইদের খেয়াল করো দেখতে পারে ছেলে চড়ুইদের গলায় কালো বিবস চেইনের মতো আছে। এবং মেয়ে চড়ুইদের তা নেই। নতুন বছরে ছেলে চড়ুইয়েরা সবসময় বিবস্‌ পরে, তোমরা দেখবে। আর যখনই তোমরা চড়ুইদের দেখবে ঐ বিবস্‌ দেখে ছেলে আর মেয়ে চড়ুই হিসেবে চিনতে পারবে।

[ ছোট্ট চড়ুই ছানা, একটি অনুবাদ গল্প। দি স্প্যারো চিলড্রেন, এই গল্পের মূল লেখক এনিড ম্যারি ব্লাইটন (১১ আগস্ট ১৮৯৭- ২৮ নভেম্বর ১৯৬৮)]

Leave a Reply


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home12/wwwafrozaaditi/public_html/wp-includes/functions.php on line 4615