পুরাতন লাল কুশন // আফরোজা অদিতি

লিসা একটি ছোট্ট মেয়ে, ওর মা অসুস্থ কিন্তু আগের তুলনায় একটু ভালো। লিসার মা এখন ঘর থেকে বাইওে যাওয়া এবং নিচ তলায় গিয়ে আর্ম-চেয়ারে বসার অনুমতি পেয়েছে। লিসা খুব খুশি। তার মা দেখতে ফ্যাকাশে এবং রোগা হয়েছে তবুও মাকে দেখতে ভালো লাগছে। ছোট্ট মেয়েটি তার মায়ের চারপাশে ঘুরছিল। তারপর থেমে বলল, “মা, তুমি কি তোমার পা রাখার জন্য একটি পা-দানি চাও অথবা পিঠে হেলান দেয়ার জন্য কুশন।” লিসার কথা শুনে মা বলল, “আমার একটি বড় কুশন আছে।” লিসা সেটি নিয়ে ওর মায়ের পিছনে দিতে চেষ্টা করতে করতে বলল, “ এটি খুব শক্ত কুশন। তুমি মা একটি নিচু কুশন চাও যেটি খুব নরম। গ্র্যানির কুশনের মতো নরম।” মেয়েটি বলল, “ যদি বাবা তোমাকে নরম কুশন দেয় তবে ভালো হয়।” শুনে মাথা নাড়লো মা। বলল, “না, সোনা, তাকে এ সম্পর্কে কিছু বলো না। এমনিতেই আমার অসুখে অনেক খরচ হয়েছে, সে নতুন নরম কুশন কেনা মতো বিলাসিতার জোগান দিতে পারবে না। আমি এই কুশনেই ভালো থাকবো।” গ্র্যানি অনেক দূরে থাকে তবুও আমি যেতে পারবো এবং তোমার জন্য কুশন আনতে পারবো। আমি জানি অবশ্যই তিনি সেটি আমাকে দিবেন।” মা বলল, “ওহ্‌ এটা ঠিকই করবে তুমি।” কিন’ লিসা ভেবে দেখল এটা খুব সহজ নয়।

লিসা ওর মায়ের হাঁটুর ওপরে কম্বল দিলো এবং তার বইটি তার পাশে রাখলো। লিসার কাজ দেখে ওর মা ভাবলো কী ভালো মেয়ে আমার। মা লিসার দিকে তাকিয়ে হাসলো, লিসাও। তার মাকে বড় শক্ত কুশনটা পিছনে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করতে দেখে ভাবলো, “আমি জানি মায়ের পেছনে খুব ব্যথা। মায়ের জন্য একটি নরম কুশন কিনতে হবে। যাই দেখি মানি-বক্সে কতো টাকা আছে।” তার কাছে ২২ পেন্স, ৫ পেন্স, ৩ পেনির খুচরা সব মিলিয়ে ৪৮ পেন্স আছে। এই দিয়ে একটি ছোট কুশন কিনতে পারবে ভেবে দোকানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। লিসা একটি ছোট্ট দোকানে সামনে দাঁড়ালো। দোকানের মালিক মিসেস ব্রায়ান মাথা নেড়ে বলল, “না সোনা, এই টাকায় আমার দোকানে কোন কুশন নাই। তুমি এই টাকায় কখনই নরম কুশন পাবে না। তার অনেক দাম। দুই পাউন্ড দামের সস্তার কুশন আছে তবে নরম হবে না।” লিসা মনের দুঃখে দোকান থেকে বাইরে এলো। নতুন সুন্দর নরম কুশনের চেষ্টা করে কিছু হবে না । সে ছোট ঘোরারো পেচানো রাস্তা দিয়ে নিচে নামলো এবং গ্রামের একটি মিষ্টির দোকানে গেল। তারপর হঠাৎ চিন্তা করলো কিছু পেপারমিন্ট কিনে বৃদ্ধ মিসেস জনস-এর ওখানে যাবে। প্রতি সপ্তাহে একবার তাকে দেখতে যাই, কিন্তু মায়ের দেখাশোনা করার জন্য যেতে পারিনি। সে পেপারমিন্ট ভালোবাসে। আমি বিশ পেন্স দিয়ে তা কিনবো।”

লিসা পেপারমিন্ট কিনে মিসেস জন্‌স-এর ছোট দুই কামরার বাড়ির দিকে রওয়ানা হলো। মিসেস জোন্‌স একজন গরীব বৃদ্ধ মহিলা। মিসেস জোনস গরীব হলেও তার দুই কামরার ছোট্ট কুটিরটিকে খুব সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতো। এবং সবসময় টেবিলে ফুলদানিতে ফুল সাজিয়ে রাখতো। লিসা দরোজায় টোকা দিল। মিসেস জোনস কাঁপা স্বরে চিৎকার করে বলল, “ভেতরে এসো।” লিসা দরোজা ঠেলে ভেতওে ঢুকলো। মিসেস জোনস রকিং-চেয়ারে বসে সেলাই করে এবং সবসময় আগে পিছে দুলতে থাকে। ওকে দেখে বৃদ্ধ মহিলা বলল, “ওমা, ছোট্ট মেয়ে লিসা যে! তুমি এসেছ মানে তোমার মা নিশ্চয় ভালো এখন! আমার খুব ইচ্ছা ছিল তোমার মাকে কিছু দেই কিন’ আমার একটি পেনিও নেই যে দিবো!” লিসা জানে খুবই দরিদ্র মানুষ এই জোনস। একবার, যখন তার টি-পট ভেঙে যায় তখন তিন সপ্তাহ জগে চা বানিয়ে খেয়েছে কারণ নতুন টি-পট কিনার মতো টাকা ছিল না। তখন লিসা তার বড় পুতুলের টি-সেট থেকে ছোট টিপট দিয়েছিল এবং মিসেস জনস বলেছিল এইটি চা বানানোর পক্ষে ভালো। “আমি কিছু পেপারমিন্ট এনেছি” লিসা বলল এবং বৃদ্ধ মহিলার কোলের ওপরে রাখলো। “তুমি খুব ভালো।” বলে কাঁপা হাতে ব্যাগ খুলল। “তোমার মা কেমন আছে? বল।” লিসা তাকে সব বলল এবং কুশন সম্পর্কেও বলল। লিসা বলল, “তার পেছনে দিয়ে বসার জন্য আমি একটি কুশন কেনার চেষ্টা করেছি কিন্তু আমার কাছে মাত্র ৪৮ পেন্স আছে- না এখন মাত্র ২৮ পেন্স আছে, সেজন্য কিনতে পারছি না। বাবাও একটা কিনতে পারবে না কারণ মায়ের অসুখে বাবার অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে।” “আহ্‌ কি কঠিন পৃথিবএখানে জীবনযাপন খুবই শক্ত! তুমি কি জান আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি। আমার বাড়িওয়ালা বাড়ি ভাড়া বাড়াবে আর আমি তা দিতে পারবো না। সেজন্য আমি চলে যাবো।” এই কথা শুনে লিসা বলল, “ওহ্‌ মিসেস জনস, তুমি তো এই বাড়িটি খুব ভালোবাস। কিন্তু তুমি যাবে কোথায়?” মিসেস জনস্‌ বিষণ্ন কণ্ঠে বলে, “আমার ভাতিজি সারাহ্‌র ওখানে।” লিসা জানে মিসেস জনস্‌ এটা পছন্দ করছে না। সারাহ্‌ অসহিষ্ণু এবং খারাপ মেজাজের একজন মেয়ে এবং বৃদ্ধ মহিলার জন্য জীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠবে। “থাক এসব চিন্তা,” বলে মিসেস জনস্‌ সেলাই শুরু করলো। তারপর বলল, “চলো, আমরা পেপারমিন্ট ড্রপ নেই আর অন্য কথা বলি।” তারা কথা বলছিল। লিসা কুশন সম্পর্কে কী বলে জানতে চাচ্ছিলেন তিনি। তার চোখ পুরানো সোফার দিকে ছিল যেখানে ছোট মেয়েটি বসেছিল। সেখানে একটি পুরানো একটি নিচু লাল কুশন ছিল যেটি বেশি ব্যবহারের ফলে জীর্ণ ছেঁড়া ছেঁড়া হয়েছিল। কিন’ এটি নিচু করে বানানো ছিল।
মিসেস জনস্‌ এবার ছাদের কড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি কিছু চিন্তা করছি। লিসা তোমার পেছনের পুরাতন লাল কুশনটি দেখেছ? ঠিক আছে তবে একটু নিচু হয়ে গেছে; এটি তোমার মায়ের জন্য নিতে পারো।” লিসা বলল, “ওহ্‌ ভালো কথা, কিন’ এটি আমি নিতে পারবো না। কারণ আমি বলেছি আমার কাছে মাত্র ২৮ পেন্স আছে।” “ঠিক আছে এখন তুমি ঐ অর্থ দিয়ে নতুন কভারের জন্য খরচ করতে পারো। গ্রামের কোন দোকানে গিয়ে লাল একটি কভার বানাতে পারো। এই কুশনটি খুব নরম জীর্ণ ও ছেঁড়া রঙ ওঠা; সেজন্য তুমি এটি বদলে ফেলতে পারো।” মিসেস জনস্‌ এর কথা শুনে লিসা বলল, “হ্যাঁ তাই করবো। খুব ভালো আইডিয়া।কিন’ তুমি আমাকে সত্যিই দিবে এটি!” “ওহ হো, আমি জানি কে তার অর্থে আমাকে পেপারমিন্ট কিনে দিয়েছে এবং কে তার পুতুলের টি-সেট থেকে টি-পট আমাকে দিয়েছিল, কে …” এই থা শুনে লিসা হেসে বলল, “ সেতো খুব ছোট জিনিস।” “সেটি ছোট হতে পারে কিন’ তুমি সেটি আমাকে দিয়েছিলে। আমার মতো গরীব বৃদ্ধ মানুষ কী আর দিতে পারে। এখন এই পুরাতন লাল কুশন বাড়ি নিয়ে যাও। একটি সুন্দর কভার কিনে লাগিয়ে নিয়ো, তোমার মা খুব আরাম পাবে।” “ধন্যবাদ” লিসা বলল। “আমাকে তো এটি নিয়ে যেতেই হবে। আমি দুই একদিনের মধ্যে আসবো। আশা করি এই কয়দিন তুমি বাড়ি থেকে বের হবে না।” “খুব ভালো; এই রকম যেন কখনও না হয়।”বদ্ধা মহিলা বলল। আরও বলল, “যখন তোমার বয়স হবে তখন তোমার ছোট্ট সুন্দর বাড়ি হবে।”

বাড়ি যাওয়ার পথে লিসা সুন্দর লাল কাপড় কিনলো এবং নতুন নীল কুশন কভার কিনলে। সে খুব আনন্দ অনুভব করলো। এখন তার মা সত্যিই নরম কুশন পাবে। ঐ রাতেই লিসা পুরাতন কভার ছিঁড়ে দেখলো নিচে অন্য আর একটি কভার। এটি সবুজ। লিসা সেটিও খুললো। ওটার নিচে আরও একটা দেখে লিসা বললো, “ ও গড, এখানে আবার অন্য একটা। আতঙ্কগ্রস্থ বলল, কেউ পুরাতন কভারের ওপর নতুন কভার লাগাতে পারে এটি খুব হাস্যকর ব্যাপার!” লিসা তৃতীয় কভার হাতে নিয়ে ওটার ভিতরে খচমচ আওয়াজ শুনতে পেলো। সে মনে করলেঅ কাগজ বা ঐ রকম কিছু ভেতরে আছে। সে তৃতীয় কভার খুলে ফেলল এবং দেখতে পেলো সেখানে পকেটের মতো সেলাই করা এবং তার মধ্যে পাতলা কাগজের বান্ডিল। ছোট্ট লিসা সেটি খুলে ওগুলো টেনে বের করলো এবং দেখলো সেগুলো পাঁচ পাউণ্ডের নোট। এত্তগুলো টাকা! অবাক হলো লিসা। ‘পাঁচ পাউণ্ডের নোটের তাড়া’ কে রেখেছে এখানে? বিস্মিত হয়ে সে বলল! সে আরও বলল, ‘নিশ্চয় মিসেস জন এ বিষয়ে কিছু জানে, তাকে বলতে হবে।’

লিসা উত্তেজিত হয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গ্রামের দিকে দৌড়ালো। ওকে দেখে মিসেস জন খুব অবাক হলো! “মিসেস জন, দেখ তোমার পুরাতন লাল কুশনের মধ্যে কি পেয়েছি।” চিৎকার করলো লিসা। “প্রথমে একটি লাল কভার,তারপরে সবুজ তারও পরে আরও একটা কভার; ওটিতে একটি পকেট সেলাই করা ছিল এবং সেই পকেটের মধ্যে পাঁচ পাউণ্ডের নোটের তাড়া।” এই কথা শুনে মিসেস জনস বলল, “পাঁচ পাউণ্ডের একগাদা নোট! ওহ্‌ এই তাহলে আমার বৃদ্ধ মায়ের সঞ্চয়। মা সব সময়ে বলতো টাকাগুলো নিরাপদে লুকিয়ে রেখেছে। কিন’ সেগুলো কোথায় কেউ জানতো না। যখন হঠাৎ মা মারা যায় তখন আমিও সেগুলো খুঁজে পাইনি।” মিসেস জনস্‌ এখন তো এগুলো পাওয়া গেছে, এগুলো তোমার। তোমাকে আর এই ছোট্ট বাড়ি ছাড়তে হবে না। তুমি ভাড়া পরিশোধ করার পরেও আরও অনেক টাকা থাকবে।” বৃদ্ধ মহিলা চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়লো। মিসেস জনস্‌ বলল, “ এগুলো তোমার, তুমি নিয়ে যাও; এগুলো তুমি পেয়েছো এগুলো তোমার।” “ না, না মিসেস জনস এগুলো সবই তোমার। তোমার দয়া করে কারণে পুরানো কুশন দিয়েছো এতেই আমি খুশি। এগুলো সব তোমার।” লিসার কথা শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মিসেস জনস বলল, তুমি এগুলোর মধ্য থেকে পাঁচ পাউণ্ড নাও। তোমার জন্য না হোক তোমার মায়ের জন্য কিছু একটা উহার কিনে নিয়ে যাও।” “না, না সে তো অনেক টাকা।” লিসা বলল। “আমি এখন খুব ধনী। এতোদিন যারা দয়া দেখিয়েছে, সেইসব বন্ধুদের প্রতিদান দিতে পারবো।তারা বারবার আমাকে দয়া দেখিয়েছে; আমার এখন আশ্চর্যজনক অনুভ’তি হচ্ছে যে, দয়ার প্রতিদান কিছুটা হলেও ফেরত দিতে পারবো। লিসা, তুমি টাকা নাও, আর সোজা দোকানে গিয়ে কিছু সুন্দর উপহার কিনে আমাকে আনন্দিত হওয়ার সুযোগ দাও।” লিসা তার মায়ের জন্য খরচ করবে ভেবে শুধুমাত্র পাঁচ পাউণ্ডের একটি নোট নিলো। লিসা ওর মায়ের জন্য ফল ও একট বই কিনে দ্রুত বাড়ি এসে তার মাকে সব কথা বলার জন্য দৌড়াতে লাগলো। বাড়ি এসে কুশন কভার পরানো শেষ করলো। এটি সত্যিই খুব নরম এবং ঠিক সেই রকম যা সে তার মায়ের পিঠে দেওয়ার জন্য চেয়েছিল। লিসার মা কুশনে হেলান দিয়ে বসে মেয়েকে বলল, “এটি সত্যিই সুন্দর! ঠিক এই রকমই চেয়েছিলাম। এমন সুন্দর কভারের জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।” তারপর আরও বলল, “মিসেস জনস্‌ এর দয়ার জন্য তাকে চিঠি লিখে ধন্যবাদ জানাবো। আর তাঁকে পাঁচ পাউণ্ড শোধ দিয়ে দিবো, যা তুমি আমার জন্য খরচ করেছো। সে একজন গরীব দুঃখি মহিলা আমি কিছুতেই তাকে আমার জন্য খরচ করতে দিতে পারবো না।” কিন’ লিসা তার মায়ের জন্য খরচ করে আনন্দিত হয়েছে। মায়ের জন্য আঙুর,পিচফল আর বই কিনলো। কী সুন্দর প্রাচুর্যপূর্ণ অনুভ’তি। লিসা নিজের মনেই বলল। অবশ্যই মিসেস জনস্‌কে কোথাও যেতে হয় নাই। তার কাছে এখন বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করার মতো যথেষ্ট টাকা আছে।

পরের সপ্তাহে তার সঙ্গে দেখা করতে গেল লিসা; সেখানে গিয়ে দেখলো ওর দেখা সব চেয়ে বড় পুতুলটা সোফার ওপর বসিয় রাখা। পুতুলটি দেখে লিসা বলল, ‘ওহ, কী সুন্দর! মিসেস জোনস, এটি কি তোমার কোন নাতনির জন্য?’ মিসেস জোনস বলল, ‘এটি আমার পরিচিত ছোট্ট একটি মেয়ের জন্য। আমি সেই ছো মেয়েটার নামেই পুতুলের নাম রেখেছি লিসা। এই দেখ এটি চোখ বন্ধ করতে ও খুলতে পারে। এর কাপড়গুলি সব খোলা যায়; এর চোখের পাপড়ি ও ছোট্ট হাতের আঙুলের নখ সত্যকারের। তুমি ওর মা, যাতে তুমি ওর দেখাশোনা করতে পারো।’ লিসার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। পুতুলটা কোলে নিয়ে আদর করতে করতে বলল, ‘আমি এটার প্রাপ্য নই।’ ওর কথা শুনে মিসেস জোনস বলল, ‘না এটা তোমার প্রাপ্য। কারণ তুমি তোমার মায়ের জন্য ভালো চিন্তা করেছিলে সেই চিন্তাই এই সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। আমি সেই ছোট্ট মেয়েটার নামেই পুতুলের নাম রেখেছি লিসা। দেখ দেখ এটা চোখ খুলতে ও বন্ধ করতে পারে। এর কাপড়গুলো খোলা যায়। এই দেখ এর সত্যিকারের চোখের পাপড়ি ও হাতের নখ। তুমি ওর মা হয়ে যাও লিসা, যাতে ওর দেখাশোনা করতে পারো।’ লিসার জন্য এই পুতুল এটা ভাবতে লিসার খুব কষ্ট হচ্ছে। তারপরেও পুতুলটা কোলে নিয়ে আদর করতে করতে বলল, ‘আমি এটার প্রাপ্য নই।’ কিন্তু মিসেস জোনস বলল, ‘না তুমিই এটার প্রাপ্য।’ তুমি আমার সঙ্গে একমত হয়ে যাও।

[ পুরাতন লাল কুশন, একটি অনুবাদ গল্প। দি ওল্ড রেড কুশন, এই গল্পের মূল লেখক এনিড ম্যারি ব্লাইটন (১১ আগস্ট ১৮৯৭- ২৮ নভেম্বর ১৯৬৮)]।

Leave a Reply


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home12/wwwafrozaaditi/public_html/wp-includes/functions.php on line 4615