পরিবেশ ও আমাদের ভবিষ্যৎ // আফরোজা অদিতি

বর্তমান যুগ শিল্পায়ন ও নগরায়নের যুগ। বর্তমান বিশ্বকে বলা হয় গ্লোবাল ভিলেজ। সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিরও অগ্রগতি হয়েছে এবং হচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ দুষণও বাড়ছে। কারণ শিল্পবিপ্লবের প্রসারে পরিবেশ রক্ষণাবেক্ষণ করে যে প্রাকৃতিক সম্পদ মানুষ তা ভোগ করতে শুরু করেছে। খাল-বিল ভরাট করে কলকারখানা,বাড়িঘর,হাইরাইজ বিল্ডিং তৈরী করছে। বৃক্ষ নিধন করে আসবাবপত্র ও জ্বালানি কাজে ব্যবহার করছে। গাছ কাটা হয়, হচ্ছে ; কখনও চুরি করে বিক্রয়ের জন্য কাটা হচ্ছে কখনও বা শত্রুতার জের ধরে সৃজিত বাগান কেটে সাফ করে দিচ্ছে প্রতিপক্ষ। গত ৩০.০৯.২০১০ এর প্রথম আলোতে প্রকাশ শত্রুতার কারণে শিবগঞ্জে একরাতে প্রাণ গেলো ১০হাজার গাছের।

কখনও সখনও সড়ক বানানোর জন্য বনের গাছ কাটা হয়। ০৩.১০.২০১০ তারিখের প্রথম আলোতে অনেকেই দেখে থাকবেন মাতামুহুরী সংরক্ষিত বন কেটে সড়ক নির্মাণ করা হবে। এই সড়কটি যদি নির্মান করা হয় তাহলে বিভিন্ন প্রজাতির ৬৫০টি গাছ ধ্বংস হবে। ইতিমধ্যে মাতামহুরী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছ পাচার এবং জুম চাষে ৩০% বন ধ্বংস হয়েছে। এভাবে যতো পরিমান গাছ কাটা হচ্ছে ততো পরিমান গাছ লাগনো হচ্ছে না। আবার যা লাগানো হয়েছে তা বড়ো হতেও তো সময়ের প্রয়োজন। সবুজ না থাকলে পরিবেশ দুষণ হয় কারণ বায়ুমন্ডলের কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস সবুজ বৃক্ষই শোষণ করে। এছাড়াও মানুষের ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দ্বারা সৃজিত নানাপ্রকার গ্যাসের কারণে পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। এই দুষণের ফলে গ্রীণহাউস তাপমাত্রা বাড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণেই হচ্ছে জলবায়ুর পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈরী প্রভাব পড়ছে পৃথিবীতে থাকা মানুষ সহ জীবজন’ পশুপাখি সব কিছুর ওপর ।

আমরা পৃথিবী নামক একটি গ্রহের বাসিন্দা। আমরা ভৌগলিক মানচিত্রের বাংলাদেশ নামের ছোট একটি উন্নয়নশীল ভূখন্ডের নাগরিক। বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ এবং দরিদ্র দেশ। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০১০ সালে হয়েছে ১৬ কোটি ৪৪লাখ। ১৯৯১ সালে এ দেশের জনসংখ্যা ছিল
১১ কোটি ২০ লাখ। ২০০১ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১২ কোটি ৯০ লাখ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের দেশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এই হারে জনসংখ্যা বাড়লে কৃষিজমির পরিমান কমে যাবে। দেশের প্রায় ৪০শতাংশ মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বাস করে। জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়াতে কৃষি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে অন্যদিকে জলবায়ুর বৈরী প্রভাব পড়ছে কৃষির ওপর। এজন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করা খুবই জরুরী। জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ না করলে দারিদ্রতা এবং পরিবেশ দুষণ কিছুতেই ঠেকানো যাবে না ।

কৃষি প্রধান দেশ ছাড়াও বাংলাদেশ নদীর দেশ। নদীগুলি ড্রেজিং না করার ফলে এবং পলি পড়ে পড়ে দিনকে দিন অগভীর এবং প্রসারতার দিক থেকেও কমে যাচ্ছে। অনদিকে বিশ্বতাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ট উঁচু হওয়ায় যে কোন প্রকার জলোচ্ছ্বাসে বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সষ্টি হচ্ছে; জলাবদ্ধতার সঙ্গে সঙ্গে জমি লবণাক্ত হয়েও পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। এছাড়াও আছে সুনামি,সিডর,আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এতে বন ধ্বংস হয়েছে, নষ্ট হয়েছে সবুজ। অসহায়মানুষ চলে এসেছে শহরে এবং আসছেও; অসহায় মানুষ থাকার জায়গার অভাবের কারণে থাকছে মাঠে কিংবা ফুটপাতে। যেখানে সেখানে রান্নার কাজসহ প্রাকৃতিক ক্রিয়াকর্মও সারছে ফুটপাত কিংবা মাঠ ছাড়াও পথেঘাটে। কারণ পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট নেই। শহরে মানুষ বৃদ্ধি হওয়াও পরিবেশ দুষণের একটি কারণ।

প্রাকৃতিক ক্রিয়াকর্মের বর্জ্য ঠিকমতো ব্যবহৃত না হওয়ার ফলে পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। রান্নার জন্য হচ্ছে কাঠ,কাগজ কিংবা চামড়া জাতীয় জিনিষ ব্যবহৃত হওয়ায় ধুয়াতে আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে পরিবেশ। এছাড়াও মানুষের অচেতনার কারণে রান্নার বর্জ্যসহ নোংরা আবর্জনা থুথু ফেলছে যেখানে সেখানে। প্রাকৃতিক বর্জ্য তো আছেই এছাড়াও মানুষ সৃজিত কলকারখানার পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনের অপরিশোধিত বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার জন্য পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। পরিবেশ দুষণের জন্য যন্ত্রপাতির ব্যবহার তো আছেই এ ছাড়াও আছে সহজে মাটিতে মিশে যায় না এমন সব বর্জ্য। যেমন পলিথিন, ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি। পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরেও এক ধরণের অসাধু ব্যবসায়ী পলিথিন উৎপাদন করছে এবং হাটেবাজারে তা ব্যবহৃত হচ্ছে। আর ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশবাদীরা এই ইলেক্ট্রনিক বর্জ্যের নাম দিয়েছে ই-বর্জ্য। এই ই-বর্জ্যে সাধারণ বর্জ্যের চেয়ে দ্বিগুন মাত্রার ক্ষতিকর উপাদান থাকে। এই উপাদান মাটির উর্বরতা-শক্তি কমিয়ে দেয়। এই সব ঘর-গেরস’ালি ইলেক্ট্রোনিক যন্ত্র ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ার পর বেশীরভাগই পুনর্ব্যবহার করা যায় না বা নবায়নযোগ্য নয়। এসব পণ্যে মার্কারি, লেড, ক্যাডমিয়াম, ডোমিয়াম, পিসিবি, ডাই-অকিষন ও ফিউরানের মতো ক্ষতিকর ধাতু থাকে যা মানুষের স্বাসে’্যর জন্য ক্ষতিকর। এনভায়ারনমেন্ট অ্যান্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্টে অর্গানাইজেশন (এসডো) পরিবেশ নিয়ে কাজ করে। তাদের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে বাংলাদেশে ২৮ লক্ষ টন ই-বর্জ্য তৈরী হয়। এর মধ্যে ২৫ লক্ষ জাহাজ ভাঙা থেকে এবং বাঁকী টেলিফোনসেট, মোবাইলসেট, টেলিভিশন, ফ্রিজ ইত্যাদি ঘর-গেরস্থালি জিনিষপত্র থেকে। বাংলাদেশ ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য পরিসি’তি- ২০১০ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ই-বর্জ্য ব্যবহারের নীতিমালা নেই এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কোন নিদ্দির্ষ্ট পরিকল্পনা নেই এজন্য দুষণ এবং ক্ষতি বেড়েই চলেছে। এসডোর পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এই বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনরুৎপাদনের সঙ্গে ৫০ হাজার শিশু শ্রমিক সহ প্রায় ১লক্ষ মানুষ জড়িত। এ ছাড়াও এসডো দাবী করেছে শিশু শ্রমিক মারা যাচ্ছে তার ১৫% এই পুনরুৎপাদনশিল্পে জড়িত শিশু (১১.১০.২০১০.প্রথম আলো) ।

আমরা ভালো থাকবো, ভালো থাকবে আমাদের দেশ এসব কথা চিন্তা করে পরিবেশ দুষণ থেকে বিরত থাকা খুবই জরুরী। কারণ পরিবেশ দুষণের ফলেই পরিবর্তিত হচ্ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। জলবায়ু হয়েছে বৈরী। এই তাপমাত্রা পরিবর্তনের জন্য দরিদ্র উন্নয়নশীল দেশগুলোর চেয়ে উন্নত দেশগুলো দায়ী হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলভোগ করতে হবে দরিদ্র উন্নয়নশীল দেশগুলোকেই। আমাদের দেশে মাঝেমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের বৈরী প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনে এসেছে সুনামি, সিডর, আইলার মতো দুর্যোগ। পৃথিবী উষ্ণ হওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ট উঁচু হয়েছে ফলে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলেই জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল। বাড়িঘর যাচ্ছে ভেসে,লবণাক্ত হচ্ছে কৃষি জমি। দুর্গত এলাকার মানুষ আসছে শহরে। শহরে বাড়ছে মানুষ এবং মানুষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনৈতিক কাজ বাড়ছে সেই সঙ্গে বাড়ছে দুষণ।

পরিবেশ দুষণের ফলে পরিবর্তিত জলবায়ুর জন্য চিন্তা করা হচ্ছে ২০৫০ সালের মধ্যে এশিয়ার গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের
১০০ কোটিরও বেশী মানুষ ব্যাপক বির্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে। ‘ম্যাপলক্রফট’ নামে লন্ডন ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান উষ্ণায়নের বিপর্যয়ের উপর গবেষণা করে। এই প্রতিষ্ঠান ১৭০টি দেশের উপর জরিপ চালিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে; ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে আসছে ত্রিশ বছরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোই ক্ষতিগ্রস’ হবে বেশী । এই ঝুঁকিকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে; ক্যাটাগরি (১) চরম ঝুঁকিপূর্ণ (২) উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ (৩) কম ঝুঁকিপূর্ণ। ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ ক্যাটাগরির মধ্যে যে ১৬টি দেশ আছে তার মধ্যে ৫টি দেশই দক্ষিণ এশিয়াতে এবং ‘চরম ঝুঁকি’র দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে অবস’ান করছে।

এই ঝুঁকি নির্ণয়ে সামাজিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব, পরিবর্তিত পরিস্থিতির মোকাবেলায় রাষ্ট্রের সামর্থ , জনঘনত্ব, ইকোসিস্টেম ও ব্যবসার উপর জলবায়ুর প্রভাবসহ ৪২টি পরিসি’তির উপর গুরুত্ব আরোপ করে ক্ষতির এই ব্যারোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এসব বিরুপতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারবে না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে উষ্ণায়নে বন্যা,খরা,ঝড়ঝঞ্চা বাড়ছে। বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এর ফলে ঘনবসতিপূর্ণ দারিদ্রপীড়িত দেশগুলোই সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে বাংলাদেশে রয়েছে দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই এবং কৃষির ওপর নির্ভশীলতা। উষ্ণায়নে জলবায়ুর পরিবর্তন এবং বৈরী প্রভাব কৃষির ওপর বেশী পড়ছে,পড়বে (কালের কন্ঠ: ২০.১০.২০১০)। কারণ পরিবেশ দুষণ থেকেই উষ্ণায়নের সৃষ্টি এবং জলবায়ুর পরিবর্তন। কলকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য,পৌরসভা,সিটিকর্পোরেশনের অপরিশোধিত বর্জ্য,ই-বর্জ্য,পলিথিন, প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য ,মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার সবকিছুতেই পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। এই দুষণ কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না। যাবে না। কারণ বাড়ছে মানুষ্‌। এবং দেশের বেশীরভাগ মানুষ দরিদ্র, অশিক্ষিত ও অসচেতন। অসচেতনা, অশিক্ষিত দরিদ্র মানুষের অনেক বৈশিষ্টের মধ্যে একটি বলা যেতে পারে।

পরিবেশ দুষণ ঠেকাতে পরিবেশবাদীরা অনেক ধরণের কার্যক্রম নিয়েছে। সরকারও নিচ্ছে। নানারকম নীতিমালার প্রবর্তনও হয়েছে। তবুও ঠেকানো যাচ্ছে না। পরিবেশ দুষণ ঠেকাতে হলে প্রথমেই দরিদ্র দূরিকরণের চেষ্টা করতে হবে। দারিদ্রতা মানুষকে অনেক ভালো কাজ করা থেকে বিরত রাখে। দরিদ্র দূরিকরণের মূল উপায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করা । জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে হলে বাল্যবিবাহ রোধে সচেষ্ট হতে হবে। সচেতন করতে হবে জনগনকে। বন্ধ করতে হবে বহুবিবাহ কারণ একজন নারী স্বাভাবিকভাবে একবারে শুধু একটি সন্তানই জন্ম দিতে পারে কিন্তু একটি পুরুষ বহু বিবাহের কারণে একত্রে অনেকগুলো সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে পারে।

পরিবেশ দুষণ ঠেকাতে হলে সচেতন হতে হবে নিজেকে সচেতন করতে হবে আশেপাশের মানুষকে । পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে । ময়লা আাবর্জনা এক জায়গায় গর্ত করে ফেলতে হবে এবং দ্রুত পচে যায় তার ব্যবস’া করতে হবে। এই আবর্জনা পচা সার জমিতে ব্যবহৃত হতে পারে। রাসায়নিক সার জমিতে যতো কম ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে। জমি এমনিতেই কমে যাচ্ছে তার ওপর রাসায়নিক সার ব্যবহারে উর্বরতা শক্তি কমে যাওয়ায় খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। বেশী লাভের আশায় পরিবেশ দুষণ হয় এমন কোন জিনিস উৎপাদন বা ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। ই-বর্জ্য মাটিতে মিশে যায় না বরং ই-বর্জ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় মাটির ক্ষতি হয়। তাই এই বর্জ্য নবায়নযোগ্য করার জন্য ব্যবস’া গ্রহণ করতে হবে। বৃক্ষ রোপন করতে হবে । বৃক্ষ নিধন থেকে বিরত থাকতে হবে।

পাবলিক টয়লেটএর সংখ্যা বাড়াতে হবে। শুধু পুরুষদের জন্য নয় নারীদের জন্যও পাবলিক টয়লেট-এর ব্যবস’া করতে হবে। তবে শুধু পাবলিক টয়লেটএর সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না জনসাধারণকে তা ব্যবহারেও উদ্বুদ্ধ করতে হবে। যেখানে সেখানে ইচ্ছামাফিক প্রাকৃতিক কর্ম থেকে বিরত করতে হবে। দুর্গত এলাকার মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস’া যতো দ্রুত সম্ভব করতে হবে। খাল ভরাট করে কলকারখানা ঘরবাড়ি বানানো থেকে বিরত থাকতে হবে। খাল ভরাট হলে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে এবং যেখানে সেখানে ফেলা আবর্জনা পচে যাওয়ায় পরিবেশ দুষিত হবে।

সবশেষে এইটুকুই করতে হবে যে বর্জ্য নষ্ট করা বা ফেলার জন্য সুনিদ্দিষ্ট নীতিমালার প্রচলন হোক বা না হোক বর্জ্য ফেলার জন্য নিদ্দিষ্ট জায়গায় ফেলার অভ্যাস নিজেদেরই গড়ে তুলতে হবে। এবং পরিবেশ দুষিত হয় এমন সব কাজ না করার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য সকলকে সচেষ্ট হতে হবে। মানুষ এখন প্রকৃতির বাইরে গিয়েও অনেক পরীক্ষা নীরিক্ষা করছে কিন’ প্রকৃতি তার স্বাভাবিক নিয়মে চলে। স্বাভাবিকতার ব্যত্যয় ঘটলেই প্রকৃতি বিরূপ আচরণ করে, বর্তমানে তাই হচ্ছে। তাই মানুষকেই সচেতন হতে হবে। মানুষ সচেতন হলেই শুধু নিজের দেশ নয়, দেশের মানুষ নয় বিশ্ব বাঁচবে বাঁচবে বিশ্বের মানুষ।

২০১০ সালে লিখিত

Leave a Reply


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home12/wwwafrozaaditi/public_html/wp-includes/functions.php on line 4615