করোনা সংক্রমণ বাড়ছে আবারও! এবার এসেছে কোভিড-১৯ এর যে নতুনচ্যালা তার নাম ওমিক্রন বা অমিক্রন। ওমিক্রন বা অমিক্রন যে নামেই ডাকা যাক না কেন তার কাজকর্ম একই! একই ধারায় সে ছুটছে আর ছুটছে এবং মানবসমাজে দ্রুত প্রবেশ করছে। মানুষ কখনও ঘরবন্দী থাকতে চায় না, নিয়মনীতিও খুব একটা মানতেও চায় না। সবচেয়ে বড়ো কথা, মানুষকে বিধিনিষেধের শেকলে বাঁধলেই মানুষের মন বেপরোয়া হয়ে ওঠে অর্থাৎ শেকল ভাঙতে সে বদ্ধপরিকর হয়ে ওঠে।
শেকল ভাঙুক কিংবা শেকল ভাঙার গান গেয়ে যাক, মানুষকে তো বলতে হবেই শেকলের মধ্যে থেকেই আমরা জয় করবো করোনা! কিন’ তা হচ্ছে কোথায়? বিশ্ব স্বাস’্য সংস’ার পরামর্শ মতো সব রাষ্ট্র সরকার বিধিনিষেধের প্রজ্ঞাপন জারী করেছেন, করছেন। ক্েউ পুরোপুরি মানছেন, কেউ বা মানছেন না। অনেকের মুখে মাস্ক নেই, মাস্ক না পরার বায়নাক্কাও তৈরিই আছে! বায়নাক্কা তৈরি আছে সবকিছুরই! মাস্ক পরা খুব জরুরী; মাস্ক পরলে শুধু করোনা নয় বায়ু দূষণ থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই আমরা সমস্বরে বলি, মাস্ক পরবো, পরবো মাস্ক।
করোনা বা কোভিড-১৯ শুরু হয়েছে ২০১৯ সালে; চীনের হুয়াং প্রদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় তারপর অতিমারী আকারে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এই অতিমারী শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের মানবস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই নানারকম বিধিনিষেধের পরামর্শ দিয়ে আসছে। এই সব পরামর্শের মধ্যে মাস্ক পরে বের হওয়া (এমন কি ঘরে থাকলেও মাস্ক পরলে ভালো এমন কথাও বলা হয়েছে), ভ্যাকসিন নেওয়া, সভা সমাবেশ না করা, বিয়েশাদী, পূজা-পার্বণ, মসজিদ-মন্দিরে সমাগম না করা আর হলেও দূরত্ব মেনে চলা, স্কুল-কলেজ- ইউনিভার্সিটিতে সরাসরি ক্লাস না করে অন-লাইন ক্লাসসহ আরও বিধিনিষেধ ছিল। করোনার তৃতীয় ঢেউ স্তিমিত হয়ে আসার পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু এবারে অমিক্রনের ধাক্কাতে চতুর্থ ঢেউয়ের আশংকায় আমাদের দেশ! অন্যান্য দেশে অমিক্রন বাড়লেও বাংলাদেশে বাড়তে শুরু করেছে। দৈনিক করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে; মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশে করোনা রোগী বেড়েছে ১৮০%। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ২৩ জানুয়ারী – এই এক সপ্তাহে দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৭ হাজার ৪২৫ জন। আর করোনাতে মৃত্যু হয়েছে ৭৯ জনের। আগের সপ্তাহে (১০ জানু.-১৬ জানু) রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২৪ হাজার ১১ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৪২ জনের। সেই সিাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে রোগী বেড়েছে ১৮০.৮০% এবং মৃত্যু বেড়েছে ৮৮.১০% অতএব সাবধানে থাকা খুবই জরুরী।
কোভিড-১৯ বা নভেল করোনাভাইরাসের আরও একটি নাম আছে যা হলো ২০১৯-এনসিওভি। করোনাভাইরাসের অনেকগুলো ভ্যারিয়েন্ট বা রূপ আছে এর একটি হলো অমিক্রন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মতো ভয়ংকর নয় এবং অমিক্রমণের মৃত্যুর আশংকা নেই বললেই চলে; তবে বুঝতে যদি না পারা যায় যে এটি ডেল্টা নয় অমিক্রন তাহলে তো মৃত্যু ঠেকানো যাবে না। ভাইরাস যদি বোধের অগম্য হয় তাহলে নিজ নিজ সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। কিন্তু কীভাবে? করোনা কিছুদিন স্তিমিত থাকার ফলে বিয়েশাদী, সভা-সেমিনার, সাহিত্যানুষ্ঠান সব চলছিল। বাণিজ্যমেলা শুরু হয়েছে। কর্মক্ষেত্র পূর্বের ন্যায় চলছিল। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলাতে পরীক্ষার দিন ধার্য করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা কর্মসূচী দিয়ে পথে নেমেছে। নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের প্রচারণা হয়েছে। প্রচারণার সময় কারও মুখে মাস্ক ছিল কারও মুখে ছিল না।
বইমেলা (অমর একুশে গ্রন’মেলা) শুরু হওয়ার কথা তবে সরকার যদি অনুমোদন দেয় তবেই হবে। স্টল বরাদ্ধ পেয়েছে প্রকাশনী এবং প্রকাশকগণ তাঁদের স্টল তৈরি শুরু করেছে। এরমধ্যেই ঘেষণা এসেছে ফেব্রুয়ারি ১৫ তারিখ থেকে মেলা শুরু হতে পারে। গতবছর অর্থাৎ ২০২১ সালে অমর একুশে গ্রন’মেলা মার্চে শুরু হয়েছিল এবং ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা থাকরেও ১২ এপ্রিল মেলা শেষ করে লকডাউন হয়েছিল। আমাদের ঐতিহ্য এবং প্রাণের মেলা ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ এটা তো হতেই হবে। একুশে বই মেলা হলে সাবধনে থাকতে হবে। শুধু মেলা কেন সবসময়ই সাবধানে থাকতে হবে; মাস্ক পরতে হবে, হাত সাবান দিয়ে ধুতে হবে, দূরত্ব মানতে হবে, করমর্দন করা ঠিক হবে না। সবচেয়ে বড়ো কথা করোনা-টিকা অবশ্য অবশ্যই নিতে হবে। নিজে বাঁচতে হবে, অন্যকেও বাঁচাতে হবে, বাঁচতে দিতে হবে।
