সীমা জানালা দিয়ে দূর আকাশের দিকে তাকায়। দেখে অতীতের ছায়া। এমনভাবে কথা বলে যেন অনেক দূর থেকে ভেসে আসছে সে কথা। জানো আমাদের সময় দেখেছি মেয়েদের বিনা দোষে শাস্তি পেতে। অনেক মেয়ের স্বামী শুধুমাত্র অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলার দোষে ডিভোর্স দিয়েছে। কোন মেয়ে ধর্ষিত হলে সেই ধর্ষিত মেয়েটি সমাজের চোখে অপাংক্তেয় হয়েছে কোন দোষ […]
Category Archives: আফরোজা অদিতির লেখা
২০১৫ সালের এক সকাল। সীমা বসে আছে। সামনে চায়ের ধোঁয়া ওঠা কাপ, খবরের কাগজ। চায়ের সঙ্গে খবরের কাগজ পড়া সীমার অভ্যাস। কাগজের প্রতিটি লাইন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে সীমা। আগে কাগজ ভালোভাবে পড়তো না। এখন না পড়লে ভাল লাগে না। মনে হয় অনেক খবরই চোখের আাড়লে থেকে যাচ্ছে ওর। ১৯৫৭ সালে মার্চে ওর জন্ম। পঞ্চাশ পার […]
বিশ্ব সভায় অনন্ত তুমিঅমর তোমার ঋককবিতা গানের ভাস্করঅজর তোমার দৃক অতল তব কাব্য-কাহিনীনাই যে তার ক্ষয়সুরের ধারার মানস নদীতারই যে পরিচয় না থেকেও বাজাও তুমিতব গানের ছন্দকবিতার কলি চৈত্র বায়েবয় যে মৃদুমন্দ লিপিগুলি সব গাঁথা আছেসবার মনতারেসহজ সরল লেখনি তাইপড়ি বারেবারে তোমার নভে দিয়েছ তুমিদীপ্ত শিহরণকবিগুরু তুমি,নাও দক্ষিণাকরি তব অর্চন #afrozaaditi.com, #আফরোজা অদিতি
আচমকা টেলিফোনভেসে এল বৃষ্টি ভেজা দিনেরমতো কথা- ‘সুপ্রভাতআফ্রোদিতি, আছো কেমন হয়েঅন্তরীণ ভলোবাসার লাল ইটের বাড়িতে’-কবিতার শব্দে সাজিয়ে শব্দগুলি ছড়িয়েদিয়ে বুকের ভেতর নদী হলো সে। দ্বিতীয়বার শুনতে পেলাম তাঁকে‘আছো কেমন আফ্রোদিতি’- তাঁরসুন্দরী প্রতিযোগিতার সুন্দরীদের মতোবিন্যস্ত কথার ফুলঝুরিতে হেসে উঠলামকাঁচভাঙা শব্দের হাসি। এরপর সে‘তোমার হাসিতে হাটখোলা বুকেসাগরের উত্তাল যন্ত্রণায় দেখতে ইচ্ছেকরছে তোমাকেই; তুমিই অবারিতআকাশ আমার’- বলেই রেখে […]
ঘাসফুলের মালা গেঁথে শব্দের অঙ্গেমিশিয়ে প্রেম প্রতীক্ষায় থাকি তোমার!একসময় বাজে ডোরবেল! দরজায় তুমি!হাওয়ায় ভাসে গান ‘শতকোটি বছরেরবিরহ নিয়ে এসেছি আমি’…কলিটি শুনতেইতোমাকে পেয়ে যায় মন, গায় মুগ্ধতার গান! শুদ্ধতার কথা ভেবে তোমার বৈষ্ণবী হতেচাওয়ার কথা ভেবে শ্রীচরণে উপুর করেবালিকার ভাববিলাসী মুগ্ধ হৃদয়। আওলা-বাওলা ভাবনায় কেটে যায়সকাল দুপুর রাত্রি… #afrozaaditi.com , #আফরোজা অদিতি
হেসে খেলে বেড়াতো মেয়েটিআদরে আবদারে বাবা-মায়ের বুকের কাছেবাড়িময় ছিল তার সরব উপস্থিতি জল তুলতো, ঝাড়ু দিতো, ঘর সাজাতো ফুলেবাড়ির সবার দিকে লক্ষ্য ছিল তাঁরঅতিথি ছিল দেবতা রোজ স্কুলে যেত, লেখাপড়ায় ছিল ভালোক্লাসে ক্যাপ্টেন, হতো প্রথমস্কুল শেষে বিকেল বেলা জল দিতো গাছে একটি বাগান ছিল ফুলে ফলে ভরাফুলে ফুলে ছিল প্রজাপতি ফড়িং, ময়না টিয়াতালগাছে ছিল একজোড়া […]
একাত্তরে হয়েছি নির্যাতিত হয়েছি শরণার্থিঘুবেছিএ-পথ ও-পথ হয়েছি নিপীড়িত,নিগৃহীত! শুধু একাত্তর নয় আজও নেই ব্যতিক্রম তারযেখানেই যুদ্ধ, যেখানেই মহামারী-শিকার হয়ে দুচোখ ভাসাতে হয় আমাকেই!আমি সিরিয়া, আমিই রাখাইন, পরিবারহীনআমিই বাংলাদেশ! যুদ্ধের ডামাডোল নয়; যখনইউত্তাল সাগর,এসেছে টর্নেডো, উঠেছে তুফান-ঝড়,শরণার্থির ব্যস্ততা, সন্তানের দেখভাল, জলভরা,রান্নাবান্না, না-খেয়ে থাকা-সব সইতে হয়এই আমাকেই। যুগ হতে যুগ কাল হতে কালসাহায্য সহযোগিতা নিয়ে বেড়ে উঠেছ […]
গাছের মগডালে ঝুলে আছে মেয়েটিচারদিকে লোকের ভীড়হৈচৈ উঁকিঝুঁকি ফিসফাসকেন হলো এমন! কিছুই জানছে না কেউ! একদিনজানতো চিনতো সকলে, পাড়াতে যাতায়াতবড় ভালো ছিল মেয়েটিঅনুরোধ উপরোধে ঢেঁকি গিলতোকথা চালাচালি গায়ে মাখেনি কখনও! এখনটেনে নামিয়ে নিয়ে যাবে ডোমজড়িয়ে পেঁচিয়ে ফেলবে তাকেলাশকাটা ঘরেঅচেনা ডাক্তারের কাঁটা-ছেড়াজীবনের হিসেব-নিকেশ টানাটানি শেষ তারপরসে হবে বিখ্যাত কোন কাগজের ক্ষুদ্র শিরোনাম!
ছেলে খেলা ছেলে খেলাগড়িয়ে গেল হাটের বেলাভালোবাসার মেলা বসেছেআয়রে দেখে যা! ভালোবাসার ফটিক জলবুকের তলায় ছলাৎছলজুটেছে এসে বেকুবের দলআয়রে দেখে যা! এ-মন ঐ মন; আনচান করেমন যখন তখন! ভালোবাসারছলে রূপায় বিকোয় মনআয়রে দেখে যা! ওরে ওরে ও বেকুবের দলমন পোড়াতে করলি এত ছল!
এক দুই তিন চারভালোবাসা ছাড়া জীবন আঁধারপাঁচ ছয় সাত আটভালোবেসে কেউ ফকির কেউ বা সম্রাটনয় আর দশভালোবাসা হৃদয়ের বশ।
