Category Archives: আফরোজা অদিতির লেখা

সালঙ্কারা // আফরোজা অদিতি

শহরের কেন্দ্রস্থলে বিশাল বাড়ি; বনেদি পরিবারের বাস। বর্তমানে যারা বাস করছেন তাদের বাবা ছিলেন জমিদারের নায়েব। তিনি ওই জমিদারের কাছ থেকে কিনেছিলেন বাড়িটি। এটা ছিল জমিদারের নাচমহল।চারদিকে ঘর। মাঝখানে বড় উঠান। বাড়িটি গোছানো ছিল বলেই বসবাসের জন্য নামমাত্র সংস্কার করেছিলেন তিনি। বাড়িতে ঢোকার লোহার দরোজা। দরোজার ডানদিকে একটা নিমগাছ। মধ্যরাতে ওই গাছ থেকে ‘নিম’ ‘নিম’ […]

ছুটির দুপুর // আফরোজা অদিতি

একটি ছুটির দিন। দুপুরের কাজ-কর্ম ; খাওয়া-দাওয়া, টেবিল গুছিয়ে এঁটো থালাবাসন কাজের বুয়ার জন্য সিংকে নামিয়ে রেখে ঘরে এসে বিছানায় গা এলিয়ে বই পড়ছিলাম। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘হঠাৎ নারীর জন্য’ কবিতার বই। পাশে ছেলে ঘুমিয়ে। আমার ছেলে বাবু। ওর তিন চলছে। আজ চারপাশটা খুবই নিঃশব্দ; নিঃশব্দ দুপুরে আমার কবিতা পড়তে খুব ভালো লাগে। সময় সুযোগ পেলেই […]

ভয়// আফরোজা অদিতি

মাঝেমাঝে বাড়ির বাইরে যাওয়া ছাড়া বেশিরভাগ সময় বাড়িতে একলা থাকেন মমতাজ বেগম। সংসারের টুকটাক কাজ করেন, বই পড়েন। ছেলে মেয়েরা যার যার মতো চাকরি-সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তিনি চাকরি করতেন। অবসরে গিয়েছেন। অবসরে যাওয়ার পরেই বদলেছে তাঁর কাজের রুটিন। অবসরে যাওয়ার কিছুদিন আগেই এই বাড়িটি কিনেছেন। প্রথম দিকে তেমন কিছু অসুবিধা হতো না কিন্তু এখন প্রায়ই […]

বিকেলের শূন্যতা // আফরোজা অদিতি

ডোর-বেলের আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল বিরতির। ঘুম পুরো না হওয়াতে মাথাটা ফাঁকা লাগছে। ঘুম ভাঙার পরে বুঝতে কিছুটা সময় লাগল যে এটা রাতের ঘুম নয় ভাত-ঘুম। দুপুরে ভাত খেয়ে বই পড়ছিল। কখন ঘুমিয়ে পড়েছে টের পায়নি। বাসায় কেউ নেই। একা একা বাসায় থাকে। সেই অবসরে যাওয়ার পর থেকেই একা। শূন্য ঘরে হাঁটে একা। নিজের পায়ের […]

ওর আয়ু // আফরোজা অদিতি

বৃহস্পতিবার। রাত নয়টা। নীলাকাশে পূর্ণিমার গোল চাঁদ। মায়াবী জোছনায় ঝলমল করছে পৃথিবী। রান্না করছিলাম। জোছনা রাতে রান্না করতে বা কাজ করছে ইচ্ছে করে না আমার। ইচ্ছে করে জোছনায় গা ডুবিয়ে আকাশ দেখি, দেখি চাঁদ, শুনি গান। কবিতায় ভাসিয়ে দেই মন। কিন’ সংসারের সাত-সতেরোতে তা হয় না কখনও। রান্না করছিলাম। পাশে দেবরের বউ, সোহাগী। যেখানে আমি […]

কথা হলো কার সঙ্গে // আফরোজা অদিতি

সকাল আটটা থেকে অবিরাম বৃষ্টি। একটানা ঝাপুর ঝুপুর, ঘাপুর ঘুপুর ঝরে ক্লান্ত হয়ে টিপির টিপ, টুপুর টুপ ইলশেগুড়ি ঝরছে। এখন তিনটা। খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে না তবুও দুপুরে সকলের শখের জন্য ইলিশ ভাজা-খিঁচুড়ি খেতে হয়েছে! খেয়েদেয়ে যে যার মতো ঘুমিয়ে, আমার ঘুম আসছে না। প্রকৃতি বিষণ্ন হলে মনও বিষণ্ন থাকে; মন বিষন্ন হলে ঘুম আসে […]

তিনটি অণুগল্প// আফরোজা অদিতি

১. তিনি // আফরোজা অদিতি খুব বই পড়তেন তিনি। বই পড়তে ভালোবাসতেন। ভালোবাসতেন কবিতা লিখতে। সবচেয়ে ভালোবাসতেন দেশ। তাঁর গ্রাম, নদী, গ্রামের মানুষ বৃক্ষলতা সব সব ছিল তাঁর কাছে প্রিয়। জীবনের সবটা দিয়েছিলেন দেশের কাজে। দেশ বা দেশের মানুষ তাঁর কাজের মূল্য দেয়নি, তাঁকে তো নয়ই। জীবন দিয়ে বুঝেছিলেন তাঁরই দলের লোকের কাছে নিজের অজান্তে […]

নিয়তি // আফরোজা অদিতি

আমার খুব ভালো লাগতো শর্ষে ক্ষেতের হলুদ ফুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে দৌড়ে বেড়াতে; ভালোলাগতো নদীর জলকলতান শুনতে; ভালোলাগতো বান্ধবীদের সঙ্গে আনন্দমুখর থাকতে। ভাইবোন প্রিয় ছিল আমার। বাবার হাত ধরে চাঁদ দেখতে ইচ্ছা করতো; মাঝেমধ্যে বাবার হাত ধরে গিয়েছি! এখন পারি না যেতে! কাশফুলের বুকের ফড়িং ধরতে ইচ্ছা ছিল; তা-ও পারি না! এখন কিছুই পারি না আমি! […]

তিনটি অণুগল্প // আফরোজা অদিতি

১. দৈনন্দিন // আফরোজা অদিতি বাজারের ব্যাগ নামিয়ে রাখে রান্নাঘরে। খোঁজ করে ঠিকে সাহায্যকারীর। এখন জুতা সেলাই থেকে চণ্ডিপাঠ সবই ওর জিম্মায়। ঠিকে-ঝিটির পাত্তা নেই। আসবে না মনে হয়! ভেতরে ভেতরে গর্জাতে থাকে শিলু। রান্নাঘরের মেঝেতে উপুড় করে ব্যাগ। দরোজায় এসে দাঁড়িয়েছে স্বামী। বাজারের জিনিষে চোখ ঘুরিয়ে বলে মাংস আনোনি আজ। গরু না হোক নিদেন […]

পরীবানুর সময়// আফরোজা অদিতি (অণুগল্প)

ড্রয়ারে রাখা মোবাইলটি বাজছে। অচেনা নম্বর। যে কাজ করে পরীবানু নম্বর অচেনা হলেও ধরতে হয়; কল রিসিভ করে।‘হ্যালো, কে বলছেন?’‘অ্যাই শোন, আমার ‘হাবির’ সঙ্গে কী সম্পর্ক তোমার?’‘কী প্রলাপ বকছেন? কে আপনি তাই বলেন।’‘আমাকে জানার কোন দরকার নাই। অন্যের ‘হাবি’র সঙ্গে বিছানায় যেতে লজ্জা করে না।’পরীবানুর রাগ হয়ে যায়। বলে,‘চুপ করেন, ভদ্রভাষা ব্যবহার করেন। আর একবার […]


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home12/wwwafrozaaditi/public_html/wp-includes/functions.php on line 4615