জন্মেছি গ্রামে এবং শিশু বয়সটাও কেটেছে গ্রামে। আমার গ্রামের নাম সাহাপুর। পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর সাহাপুরে আমার শিশু বয়সের বেড়ে ওঠা। যখন জন্মেছিলাম তখন ছিলো অজ পাড়া গাঁ। বাড়ির পাশে বড়ো মাটির রাস্তা; রাস্তাটি নদী থেকে উঁচু করতে শ্রকিদের সঙ্গে আমার বাবাও মাটি কেটেছিলেন। বাবা তখন ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ঐ রাস্তার পাশে ছিল দুই দুইটি […]
আমার বাবা রাজনীতি করতেন। মা-ও রাজনীতিতে বাবার সহকর্মী ছিলেন। ভাইবোনদের মধ্যে আমি বড়ো। আমি ছোটোবেলায় পাবনায় এক বাড়িতে জায়গীর থেকে লেখাপড়া করতামম। ওখানে ওদের মতো করেই আমাকে থাকতে হতো। ওই বাড়িতে কাজ করতাম, পড়তাম, স্কুলে যেতাম। কাজ আর পড়ার ফাঁকে ফাঁকে গল্পের বই পড়তাম, গান শুনতাম। ওই বাড়িতে রাজনীতির চর্চা থাকলেও ওই পরিবার ছিল জোতদার […]
স্বাধীনতা নয় শুধু! চাই অধিকার!পথচলা,কথাবলার, বেঁচে থাকার অধিকার চাই! এই পৃথিবী যেমন তোমার তেমনি আমারতবুও কেন গরম পিচে পুড়বে আমার পাকেন অগ্নিদগ্ধ হবে আমার গা, কেন চক্ষু-প্রাণথাকবে না আমার হেফাজতে! স্বাধীন হয়ে জন্মেছি; জন্ম আমার স্বাধীন! স্বাধীনতার জন্য রক্তক্ষয়, স্বাধীনতার জন্য ত্যাগযেমন করেছ তুমি, তেমনি আমিও!তিনসন্ধ্যা করবে অত্যাচার আর তিতিক্ষু হয়েকরে যাবে ক্ষমা; অনেক হয়েছে […]
কথা তো ছিল নাঅলিখিত সংবিধানের মতো শতকষ্টেওহাসতে হবে বালিকাকে! প্রশ্ন একটা্ই, না-পাওয়া আর কষ্টের ভীড়েযদি হাসির মল্লিকা না ফোটাতে পারে বালিকাতখন কী হবে? যদি না পারে আনন্দবোমারবিস্ফোরণে চমকে দিতে পৃথিবীটাকে, নাইচ্ছে করে সুখের বিল্লপত্রে হতে প্রেমপূজারী,তখন কী মনক্ষুন্ন হবে পৃথিবী? বালিকা জানে, জানে বালিকাসহজে কিছু পাওয়ার নয়, হওয়ারও নয় তবুওপ্রতীক্ষার স্নিগ্ধকরতলে ধরতে চায় প্রারব্ধদিনেরসকাল! চিরায়ত […]
সকালের খাবার, রুটি আর ডিম সঙ্গে অল্প একটু মিষ্টি নিয়ে ডাইনিং-এ বসেছেন মীরা দত্ত। মীরা দত্তের সকালে একটু মিষ্টি না হলে দিনটা কেমন ম্যারাম্যারা লাগে! তাঁর স্বামী না করেন না, বলেন একটু-আধটু মিষ্টি না খেলে ব্রেনের কর্মক্ষমতা কমে যায়। খাবে কিন’ বেশি না। মীরা বেশি মিষ্টি নেয় না, অল্প পরিমানেই নেয়, তবুও নেয়! স্বামী, তাঁর […]
ডোরবেলের আওয়াজদরোজা খুলতে দেখি কেউ নেই!এমনি হচ্ছে আজকাল! এই বাড়িটিযেখানে থাকি সেখানে আমাদেরপাশাপাশি বাস করে ছায়া-পরিবার!প্যারালেল ওয়ার্ল্ডের বাসিন্দা তাঁরা! ছায়া-পরিবারের ডোরবেলের আওয়াজশুনতে পাই কখনও, কখনও পাই না!কখনও বা মনে হয় কেউ আমাকে‘মা’ বলে ডাকছে; কখনও বা‘অদিতি’ বলে! কখনও উত্তর দেই;কখনও দেই না। জবাব দিলে আরকোন কথা শুনতে পাই না! মাঝেমধ্যে একটি ছায়া দ্রুত সরে যায়চোখের […]
বৃষ্টিভেজা দুপুরটাকেরাখতে পারতাম হাতের মুঠোয়দিতাম রেখেএই জীবন ঈশ্বরের তারপরতার এবং আমার আর কারও নয়! অনেক অপেক্ষার পর যখনতাঁকে পাই, পাই অনন্ত দুপুরসমস্ত দুঃখ বেদনা কষ্ট দূর হয়েভেসে যাওয়া শুভ্র মেঘের মতোহেসে উঠি আমি! সে থাকে কাছে রাখে বুকেঅনন্য এক দুপুর উপহার দিয়ে বাঁধেতাঁকে বাঁধতে পারি না, ধরতেও না!শুধু ঐ দুপুরটাকেবুকে নিয়ে সেই দুপুরের নির্যাসটুকুছড়িয়ে দেই […]
দিন রাত্রি মোবাইল থাকে খোলাতবুও বাতাস হয় না আপনভোলাএক দুই তিন জীবনের ধারাপাতসব হয়েছে মিছে শুধুই প্রাণপাত ঝরনার জলে কলহাস্য করে করেবিকেলের ফুল ভোরেই যায় ঝরেহৃদয়ের মাঝে তরুণ স্বপ্ন জগিয়েকোন উপবনের মায়া দিলে ছুঁয়েবাউল মনের আনচান করা সুরেকষ্ট মাদুলি কন্ঠে নিলে যে ভরে বিরহী আকাশ বুকে নিয়ে শুকতারাডাকে জীবন এসো এসো পথহারা।
যে কোন মহামারিতেই মানবগোষ্ঠীর ওপর সামাজিক-অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়। এই চাপ মানুষকেই বহন করতে হয়। মহামারি চলাকালে মানব জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটে! নতুন কিছু সৃষ্টি হয়, কিছু বিলীন হয়ে যায়! এই সব নিয়ে মানুষ বেঁচে থাকে, বেঁচে ওঠে! এবং অসুখ-বিসুখ পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যায় না, মাঝেমধ্যেই ফিরে আসে; তবে কোভিড-১৯ ফিরে আসেনি, এসেছে তার দ্বিতীয় ঢেউ! […]
ইরার ওষ্ঠে// আফরোজা অদিতি প্রখর সন্তাপে ইরার ওষ্ঠে খেলা করছেমোহন মারকমায়া। ঘরবন্দী এই ক্ষুদ্রজীবনের আয়নাতে ছায়া ফেলেছেঅণুজীবকণার দঙ্গল! শতাব্দি পেরিয়ে এখানে থাবা বসিয়েছেনভেল করোনা; অস্তাচলের লালিমাভায়রাঙা বাতাসে আজ মারণগন্ধ কবিতা!ভীতসন্তস্ত্র মানুষ ছুটছে দিগ্বিদিক;বেকারত্বের অরণ্যে লিকলিকে আশাখুঁজে ফেরে পথ! এখানে কবিতা দিশেহারা! আসমান থেকে ঝরছে আগুন; পুড়ছেফিলিস্তিন, বিবর্ণ গাজা। সাঁজোয়া যানেরবেপরোয়া আগ্রাসনে মৃত প্রকৃতি দুহাতেআগলে রেখেছে […]
